চুরির অভিযোগে চোখ ও হাত-পা বেঁধে যুবককে রাতভর নির্যাতন

  হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ২৬ জুন ২০১৯, ২৩:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

যুবককে চোখ, হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন
যুবককে চোখ, হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চুরির অভিযোগ এনে অহিদুল ইসলাম অহিদ (২৫) নামে এক যুবককে চোখ, হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে।

শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর তাকে পুলিশে দেয়া হলে পুলিশ তাকে অন্য আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লাকুহাটি গ্রামে।

নির্যাতনের শিকার অহিদ পার্শ্ববর্তী জগদল গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে।

অহিদের পারিবারিক সূত্র জানায়, অহিদ বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাড়িতে নকশা করার সরঞ্জামাদি বিক্রি করত। ১৬ জুন রাতে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে লাকুহাটি গ্রামের মামুন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে চুরির অপবাদ দিয়ে একদল যুবক চোখ, হাত-পা বেঁধে তাকে নির্মমভাবে পেটায়। রাতভর চলে এ অমানবিক নির্যাতন।

পরদিন সকালে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় নির্যাতনকারীরা। ওইদিন পুলিশ তাকে ৮ মে পৌর এলাকার নতুন বাজারে সংঘটিত সংঘর্ষের সময় পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধাদান ও আহত করার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। ২৩ জুন মামুন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে চুরির মামলাটি রেকর্ড হয়।

পরবর্তীতে অহিদকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ২৪ জুন এ সংক্রান্ত আরেকটি মামলা রেকর্ড হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, চোখ ও হাত-পা বেঁধে অহিদকে কয়েকজন বেধরক পেটাচ্ছে। এ সময় নিজেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে কাকুতি-মিনতি জানাচ্ছে। আশপাশে থাকা লোকজন দাঁড়িয়ে দেখছিল। কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।

অহিদের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই যদি চুরি করে থাকে তবে তাকে কেন পুলিশকে আহত করার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়?

তিনি বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে লাকুহাটি গ্রামের পল্টু, এরশাদ ও জুয়েলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী চোখ, হাত-পা বেঁধে এ অমানবিক নির্যাতন চালায়। আমি এ রহস্যের সত্যতা উদঘাটনসহ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুরি যাওয়া ওই দোকানের মালামাল এখন পর্যন্ত পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে ওই দোকানটি পরিদর্শনকালে দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা বলছে অবস্থা বেগতিক দেখে দোকানের মালিক মানিক মিয়া গা ঢাকা দিয়েছেন।

নির্যাতিত যুবক অহিদের বাবা বাবুল মিয়া অভিযোগ করেন, আমার নিরপরাধ ছেলেকে একে তো নির্যাতন করা হয়েছে। তার ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার কার কাছে চাইব?

এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) নুর ইসলাম বলেন, অহিদ ৮ মে পৌর এলাকার নতুন বাজারে সংঘটিত সংঘর্ষের সময় পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধাদান ও আহত করার মামলায় আগে থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিল। তবে তাকে নির্যাতনের বিষয়টি পরে জানা গেছে।

এ বিষয়েও মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে, দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×