নুসরাত হত্যা: ফের বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

  সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি ৩০ জুন ২০১৯, ১২:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

নুসরাত হত্যা: ফের বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে
নুসরাত হত্যা মামলায় ফেনীর আদালতে বাদীপক্ষের লোকজন। ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় ফের বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এ সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ১৬ আসামি ও বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানসহ দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার অভিযোগ গঠনের ছয় দিনের মাথায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে তিনজন সাক্ষীকে আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সাক্ষ্য শেষ না হওয়ায় সেদিন আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি হাফেজ আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার নুসরাতের দুই সহপাঠী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানার সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় বাদীর এই সাক্ষ্য ও জেরা নেয়ার কারণে তাদের সাক্ষ্য নিতে পারেনি।

মামলার আগামী ধার্য তারিখে অপর সাত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করবেন। একই সঙ্গে ওই দিন নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আদালতে সাক্ষ্যদানকালে নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়ার পর তাকে উদ্ধারের আগ পর্যন্ত অবস্থার বর্ণনা করেন।

নোমান আদালতকে বলেন, ওই দিন পরীক্ষা ছিল, লোকজন সেভাবে ছিল না। মেইন গেটে দারোয়ান ও পুলিশ ছিল। যে সাইক্লোন সেন্টারের ঘটনা তার গেট আবার মাঠের মধ্যে উল্টো দিকে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অনেকে নুসরাতকে চিৎকার করতে দেখেছে। পরে আয়া, বাংলা শিক্ষক, দারোয়ান ও পুলিশ কনস্টেবল সোহেল এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসার পথে সে আমাদের বলেন, ‘শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিয়েছে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করব।’

সূত্র জানায়, আগে ২০ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালত।

এর আগে গত ২৮ মে ফেনীর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর পর গত ৩০ মে মামলার ধার্য তারিখে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি না করে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শুরু করা হয়।

প্রসঙ্গত সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান ওরফে রাফিকে গত ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ও পিবিআই এ মামলায় ২২ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ৫ জনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়।

এর আগে গত ২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা। এ ঘটনায় নুসরাতের মা বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ওই মামলা তুলে না নেয়ার কারণে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় নুসরাতকে।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ১৬৪ ৩৩ ১৭
বিশ্ব ১৪,৩১,৭০৬ ৩,০২,১৫০ ৮২,০৮০
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত