নুসরাতের ভাইয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস
jugantor
নুসরাতের ভাইয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

  জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি  

৩০ জুন ২০১৯, ২০:৫৪:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির পরিবারের সদস্যরা কিছুতেই যেন তাকে ভুলতে পারছে না।

ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ছে রাফি ও তার অতীত স্মৃতিকে। বুকে চাপানো ব্যথা নিয়ে ফেসবুকে এক আবেগঘন স্টেটাস দিল রাফির ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। তা পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল।

‘ছাত্রজীবন হলো মানুষের সব চেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্র, তবে এ যুদ্ধো ক্ষেত্রে কোনো মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় না। ব্যবহারিত হয় কলম নামের এক ধারালো তরবারি আর কাগজ নামক যুদ্ধ ক্ষেত্র...’।

নতুন জায়গায় নতুন পরিবেশে। লক্ষ্য উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন সচেতন নাগরিকের ভূমিকা পালন করে ন্যয়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাবো। যেমনটি করেছিল আমার কলিজার টুকরা বোন, আর সেই প্রতিবাদে মৃত্যু হয়েছে আমার আপুর।’

‘মৃত্যুর ভয় করি নাকো আমি
মরে তো সেদিনই গিয়েছি
যেদিন দেখিয়াছি চোখের সামনে
নিজের বোনের পোড়া দেহ খানি।
পানি দাও পানি দাও বলিয়া
করিয়াছে চিৎকার পারিনি দিতে
এক ফোঁটা পানি ও, পারিয়াছি
শুধু অঝোর ধারায় কাঁদতে
কী হতভাগ্য ভাই আমি।

শুধু কামনা করি এটাই
আমার মত হয় না যেন কভু
কোনো প্রতিবাদির ভাই
ও সিরাজ!

পারবি কি তুই.?
ফিরিয়ে দিতে আবার
আমার বুকে
যে বুক থেকে কেড়ে নিয়েছিস
আমার কলিজাটাকে।

ও শামিম!
পারবি কি তুই মুছে দিতে
কন্যাহারা মায়ের চোখের পানি?

জানি পারবি না
হে জানি পার বিনা।

ও নুরু!
কারাগার থেকে দিস না তুই ভাষণ
পারলে ফিরিয়ে দে মেয়ে হারা
বাবার মুখের হাসি?
যে মুখে ছিল মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎতের
প্রতিচ্ছবি।

কাদের! জাবেদ! শরিফ! রানা!
পারবে কি তোরা, তোদের বোনকে পুড়াবে জেনেও দিতে তোরা পাহারা..?

পপি! মনি! কতটা নিষ্ঠুর তোরা
বাঁচাও বাঁচাও আত্মচিৎকার শুনিয়া তবু্ও
তাকালিনা পিছনে ফিরিয়া
পুড়িয়ে দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় দিলি পরীক্ষা।

ইমরান তোর মুখের ভাষা দেখে
বাকি ছিল না মোর বুঝার
তাই তো দিইনি তোর রক্ত
পবিত্র শরীরে মোর বোনের।

জন্মের পর থেকে করিলি শুরু
একের পর এক অন্যায়
জুবায়ের তুই কীভাবে পারলি
জ্বালিয়ে দিতে একটা তরতাজা প্রাণ?

অর্থ দিয়ে করিছিলি তুই সহায়তা
ও হারামজাদা

থানা কন্টাক্ট করে পেরেছিলি তুই
দিতে সত্যি কে ধামা চাপা?

তোদের বিচার করবে খোদা
ইহকাল ও পরকালে
অপেক্ষায় থাকিস দিতে উত্তর
কেয়ামতেরি মাঠে
কী অপরাধে মেরে চিলি তোরা আমারি
নিরপরাধ বোনকে।

আজ সমগ্র দেশের মানুষ অপেক্ষায় আছে
কখন ওই মানুষরূপী হায়নাদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো হবে।

নিজের জীবন দিয়ে
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়
চিরনিদ্রায় শায়িত
আমার কলিজার টুকরা বোন
সারা পৃথিবীকে দেখিয়ে গিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়।

দোয়া করি আল্লাহ আমার শহিদা বোন কে জান্নাতের সর্বচ্চ স্থান জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক (আমিন)।

(রায়হান, শহিদা নুসরাতের ছোট ভাই)’

নুসরাতের ভাইয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

 জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি 
৩০ জুন ২০১৯, ০৮:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির পরিবারের সদস্যরা কিছুতেই যেন তাকে ভুলতে পারছে না।

ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ছে রাফি ও তার অতীত স্মৃতিকে। বুকে চাপানো ব্যথা নিয়ে ফেসবুকে এক আবেগঘন স্টেটাস দিল রাফির ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। তা পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল।

‘ছাত্রজীবন হলো মানুষের সব চেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্র, তবে এ যুদ্ধো ক্ষেত্রে কোনো মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় না। ব্যবহারিত হয় কলম নামের এক ধারালো তরবারি আর কাগজ নামক যুদ্ধ ক্ষেত্র...’।

নতুন জায়গায় নতুন পরিবেশে। লক্ষ্য উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন সচেতন নাগরিকের ভূমিকা পালন করে ন্যয়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাবো। যেমনটি করেছিল আমার কলিজার টুকরা বোন, আর সেই প্রতিবাদে মৃত্যু হয়েছে আমার আপুর।’ 

‘মৃত্যুর ভয় করি নাকো আমি
মরে তো সেদিনই গিয়েছি 
যেদিন দেখিয়াছি চোখের সামনে 
নিজের বোনের পোড়া দেহ খানি।
পানি দাও পানি দাও বলিয়া 
করিয়াছে চিৎকার পারিনি দিতে
এক ফোঁটা পানি ও, পারিয়াছি 
শুধু অঝোর ধারায় কাঁদতে
কী হতভাগ্য ভাই আমি।

শুধু কামনা করি এটাই
আমার মত হয় না যেন কভু 
কোনো প্রতিবাদির ভাই 
ও সিরাজ!

পারবি কি তুই.?
ফিরিয়ে দিতে আবার 
আমার বুকে
যে বুক থেকে কেড়ে নিয়েছিস
আমার কলিজাটাকে।

ও শামিম!  
পারবি কি তুই মুছে দিতে 
কন্যাহারা মায়ের চোখের পানি?

জানি পারবি না 
হে জানি পার বিনা।

ও নুরু!
কারাগার থেকে দিস না তুই ভাষণ
পারলে ফিরিয়ে দে মেয়ে হারা
বাবার মুখের হাসি?
যে মুখে ছিল মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎতের 
প্রতিচ্ছবি।

কাদের! জাবেদ! শরিফ! রানা!
পারবে কি তোরা, তোদের বোনকে পুড়াবে জেনেও দিতে তোরা পাহারা..?

পপি! মনি!  কতটা নিষ্ঠুর তোরা 
বাঁচাও বাঁচাও আত্মচিৎকার শুনিয়া তবু্ও 
তাকালিনা পিছনে ফিরিয়া
পুড়িয়ে দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় দিলি পরীক্ষা।

ইমরান তোর মুখের ভাষা দেখে
বাকি ছিল না মোর বুঝার 
তাই তো দিইনি তোর রক্ত 
পবিত্র শরীরে মোর বোনের।

জন্মের পর থেকে করিলি শুরু 
একের পর এক অন্যায় 
জুবায়ের তুই কীভাবে পারলি
জ্বালিয়ে দিতে একটা তরতাজা প্রাণ? 

অর্থ দিয়ে করিছিলি তুই সহায়তা 
ও হারামজাদা

থানা কন্টাক্ট করে পেরেছিলি তুই
দিতে সত্যি কে ধামা চাপা? 

তোদের বিচার করবে খোদা 
ইহকাল ও পরকালে 
অপেক্ষায় থাকিস দিতে উত্তর 
কেয়ামতেরি মাঠে 
কী অপরাধে মেরে চিলি তোরা আমারি
নিরপরাধ বোনকে।

আজ সমগ্র দেশের মানুষ অপেক্ষায় আছে
কখন ওই মানুষরূপী হায়নাদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো হবে।

নিজের জীবন দিয়ে 
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়
চিরনিদ্রায় শায়িত 
আমার কলিজার টুকরা বোন 
সারা পৃথিবীকে দেখিয়ে গিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়।

দোয়া করি আল্লাহ আমার শহিদা বোন কে জান্নাতের সর্বচ্চ স্থান জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক (আমিন)।

(রায়হান, শহিদা নুসরাতের ছোট ভাই)’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন