‘অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে নুসরাতকে কাঁদতে কাঁদতে বের হতে দেখি’

  ফেনী প্রতিনিধি ০৩ জুলাই ২০১৯, ২০:১২ | অনলাইন সংস্করণ

‘অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে নুসরাতকে কাঁদতে কাঁদতে বের হতে দেখি’
নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় মঙ্গলবার ও বুধবার বিকালে চতুর্থ দিন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন চার নম্বর সাক্ষী মাদ্রাসার অফিস সহকারী নুরুল আমিন।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এ সাক্ষ্য দেন তিনি। আদালত বিকাল ৫টা পর্যন্ত তার সাক্ষ্য নিয়ে শুনানি মুলতবি করেন।

বুধবার বেলা ১১টায় তার অবশিষ্ট সাক্ষ্য ও জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। বিচারিক আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাহান সাজু বলেন, নুরুল আমিন সাক্ষ্য দেয়ার সময় আদালতকে বলেন- ‘অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার নির্দেশে ২৭ মার্চ সকালে নুসরাতকে ক্লাস থেকে অধ্যক্ষের কক্ষে যেতে বলেছিলাম। তিনি সে সময় ক্লাশে বসে সহপাঠীদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। নুসরাত তার বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফূর্তিকে নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে যান। অধ্যক্ষ সিরাজ নিশাত ও ফূর্তিকে কক্ষের বাইরে বের করে দেন। এর কয়েক মিনিট পর অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে নুসরাতকে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে বাড়ি চলে যেতে দেখি। পরে দেখি নুসরাতকে সঙ্গে নিয়ে তার মা, ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান ও স্থানীয় কাউন্সিলর ইয়াসিন অধ্যক্ষের কক্ষে যান। এ সময় অধ্যক্ষ সিরাজ উল্টো তাকে গালমন্দ করেন এবং নুসরাতের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করেন। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ ফোন করলে পুলিশ মাদ্রাসায় যায়।’

এর আগে একই আদালতে বেলা ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত সাক্ষী নাসরিন সুলতানা ফূর্তিকে জেরা করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

গত ২৯ মে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠাসংবলিত নথি ও চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ৩০ মে মামলার ধার্য তারিখে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি না করে ওই মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানোর আদেশ দিয়ে ১০ জুন মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন।

পরে ১০ জুন আদালত চাজশিট আমলে নিয়ে ২০ মে চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদ্রাসার সহসভাপতি রুহুল আমিন।

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের, জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২৭ ও ৩০ জুন নুসরাত হত্যা মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। ১ জুলাই নুসরাতের সহপাঠী নিশাত সুলতানার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×