‘নুসরাতকে হত্যার দিন মনি যথাসময়ে পরীক্ষার হলে আসেনি’

  ফেনী প্রতিনিধি ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:৩২:২০ | অনলাইন সংস্করণ

নুসরাত জাহান রাফি

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় ওষুধ দোকানদার জহিরুল ইসলাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক বেলায়েত হোসেন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে তাদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে এ জেরা।

কর্মদিবস শেষ হয়ে যাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার ও মাদ্রাসার অপর শিক্ষক আবুল খায়েরের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, ফার্মেসি দোকানদার জহিরুল ইসলাম আদালতকে জানান, নুসরাত জাহান রাফিকে আগুন দেয়ার পর আসামি নুর উদ্দিন তার দোকানের সামনে দিয়ে দ্রুত গ্রতিতে পালিয়ে যেতে তিনি নিজ চোখে দেখেছেন।

তিনি আদালতকে জানান, নুর উদ্দিন প্রায় সময় তার দোকানে বসে আড্ডা দিতেন এবং গল্প করতেন। আজ কেন নুর উদ্দিন এতো দ্রুত গতিতে হেঁটে যাচ্ছে। এ নিয়ে তার প্রশ্ন করার সময় হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাধারণ মানুষ বুঝে ওঠার আগেই নুর উদ্দিন পালিয়ে যায়।

মাদ্রাসাশিক্ষক বেলায়েত হোসেন আদালতকে জানান, নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেয়ার দিন রাফি যে হলের পরীক্ষার্থী ছিলেন আমি সে হল রুমের দায়িত্বে ছিলাম। ওই দিন এ মামলার আসামি কামরুন নাহার মনি পরীক্ষা কেন্দ্রে যথাসময় হাজির হননি। মনি পরীক্ষা শুরুর কিছু সময় পর হলরুমে এসে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

পরে আসামিপক্ষের প্রায় ১৬ আইনজীবীরা মাদ্রাসাশিক্ষক বেলায়েত হোসেনকে জেরা করেছেন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার পর এ মামলার অভিযুক্ত ১৬ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফেনীর কারাগার থেকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হয়। সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিদিনই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলছে।

এনিয়ে হত্যা মামলার ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ও শিক্ষক আবুল খায়ের আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলে জানা গেছে।

আসামিপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, মাফুজুল হকসহ আসামিপক্ষের প্রায় ১৬ জন আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেন।

তারা বলেন, আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার কথায় অনেক গরমিল রয়েছে। আমরা আদালতকে তাদের এই গরমিলের বক্তব্য ধরিয়ে দিয়েছি। বলেছি তাদের কথায় কোনো সত্যতা নেই।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতহানির মামলা তুলে না নেয়ায় তাকে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে- মৃত্যু শয্যায় এসব কথা নুসরাত বলে গেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর পরিদর্শক শাহ আলম আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে চার্জশিট জমা দেন।

চার্জশিটের ১৬ আসামি হলেন- মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অন্য পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করে পিবিআই। আদালত তা অনুমোদন করেন।

এ ছাড়া যৌন নিপীড়নের মামলার পর নুসরাতের জবানবন্দি গ্রহণের সময় ভিডিও ধারণ করে- তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা হয়।

ওই মামলায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। পরে রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন ও দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত