অবশেষে নাগরপুরের বন্যা-রিনির স্বপ্নপূরণ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ১৮:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

  নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

বন্যা আক্তার ও রিনি আক্তার

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের বন্যা আক্তার ও রিনি আক্তারের স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। ছোটবেলা থেকেই সেই স্বপ্ন লালন করে আসছে তারা। গত বছর চেষ্টা করেও পুলিশের চাকরি পাননি।

এবার সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে তাদের। তারা পুলিশের চাকরি পেয়েছেন।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দক্ষিণ নাগরপুর এলাকার কৃষক পরিবারের সন্তান বন্যা আক্তারের স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। চাকরি করে অভাবের সংসারের হাল ধরবেন তিনি।

কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছিল বন্যার। গত বছর পুলিশে চাকরির ভাইভা পরীক্ষা দিয়েও চাকরি না পেয়ে ভেঙে পরেননি তিনি বরং চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন পুলিশে চাকরি করবেই।

দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে বন্যা সবার ছোট বন্যা পড়াশোনা করছেন নাগরপুর মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে। বাবা সোরহাব মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। তার একার পক্ষে বড় এ সংসার চালানো দায়। কিন্তু অভাবের সংসারে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়ার সেই সামর্থ্য নেই তার।

এবার তিনি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জেনেছেন চাকরিতে কোনো ঘুষ লাগবে না। ১০৩ টাকায় পুলিশের চাকরি পাওয়া যাবে। পুলিশের আইজিপির পক্ষ থেকে এমন প্রচারণা দেখে আবেদন করেছিলেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকেও তাকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। শরীরিক ফিটনেস কিংবা মেধা দুটিই ছিল তার। তাই আত্মবিশ্বাসও ছিল তার। মাত্র ১০৩ টাকায় হয়েও গেল সেই চাকরি। 

এ ব্যাপারে বন্যা আক্তার বলেন, ‘আমি কখনই কল্পনাই করতে পারিনি যে ১০৩ টাকায় চাকরি পাব। কখনই এমন হয়নি। কিন্তু ঘুষ ছাড়াই চাকরি দিয়ে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। ঘুষ ছাড়া চাকরি পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।

তিনি বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক। আমার এ চাকরিটি খুব দরকার ছিল। আশা করছি এখন আমি পরিবারের হাল ধরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারবো। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের স্থানীয় এমপি আহসানুল ইসলাম টিটুকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। তারা ঘুষ ছাড়া চাকরির ব্যাপারে আন্তরিক না হতেন তাহলে আমার মতো দরিদ্র মেয়ের পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হত না।

অপরদিকে নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা গ্রামের রিনি আক্তার নামের এক কলেজ ছাত্রীর চাকরি হয়েছে। তার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়ার। পুলিশ হয়ে মানুষের সেবা করবে। আর তার এই স্বপ্ন পূরণ হলো। পরিবারও তাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে।

তিনি চলতি পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ঘুষ ছাড়াই ১০৩ টাকা খরচ করে চাকরি পান তিনি। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে রিমি মেঝো। 

এ ব্যাপারে রিনি আক্তার বলেন, যখন থেকে আমার বুদ্ধি হয় তখন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল পুলিশের চাকরি করে জনগণের সেবা করবো। প্রথম দিকে আমার আবু-আম্মু আমাকে সায় না দিলেও পরবর্তীতে আমাকে উৎসাহ যোগায়। পরবর্তীতে চলতি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ঘুষ ছাড়াই আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়।

এ ব্যাপারে রিনি আক্তারের মা বিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে ঘুষ ছাড়াই চাকরি পেয়েছে এতে আমি খুবই খুশি। আমি দোয়া করি সে যেন মানুষের সেবা করতে পারে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ‘আমি আশাবাদী ছিলাম স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার  ভিত্তিতেই মাত্র ১০৩ টাকায় ১৩৬ জনকে চাকরি দেয়া হয়েছে। আইজিপি ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির প্রেরণা আমাদের এ সাহস জুগিয়েছে।

যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। প্রকৃত মেধাবিরাই চাকরিতে সুযোগ পেয়েছে বলে তিনি জানান।

এসপি বলেন, সরকারসহ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা চাচ্ছেন পুলিশে স্বচ্ছতা ফিরে আসুক। সেই চাওয়া পূরণেই টাঙ্গাইল পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছে। এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে চাই।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশ সব সময়ই জনগণের স্বার্থে কাজ করে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ায় তারা আগামীর দিনগুলিতে বিভিন্ন কর্মস্থলে দেশের সাধারণ নাগরিকদের পাশে থেকে সেবা প্রদান করবেন।