সুনামগঞ্জের সুরমার পানি বিপৎসীমার ৯৭ সেমির উপরে

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ২৩:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

  সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

পানিতে তলিয়ে গেছে স্কুল-কলেজ

অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার ৬ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি বিকালে বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর,জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নিম্নাঞ্চলীয় প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখিত উপজেলা সমূহে হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। টানা বর্ষণে হাওর জনপেদ একধরনের বিপর্যস্থ ভাব নেমে এসেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

রাস্তাঘাট, জনপদ, হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। টানা বৃষ্টির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষরা বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে তাদের আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে।

জেলা পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিনের টানা ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারাসহ সবকটি  নদ-নদীর  পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার বিকাল ৩টায় সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৮ মিলিমিটার।

বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে করে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর ডুবন্ত সড়ক গত ৪দিন ধরে পানির নিচে ডুবে আছে। তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট-তাহিরপুর সড়কও নিমজ্জিত হয়েছে। দোয়ারা-সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের কয়েকটি স্থানে পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।

নদ-নদী উপচে পানি জনপদে পানি প্রবেশ করায় ভেসে গেছে সদর উপজেলা, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শতাধিক পুকুরের মাছ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস্যচাষীরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে জেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলায় ৫টি, তাহিরপুরে ২টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২টি এবং সদর উপজেলায় ১টি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। জেলার প্রায় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা ও আঙিনায় পানি প্রবেশ করায় অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তাছাড়া বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা করে মাঠ প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানা গেছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলায় ৩ লাখ টাকা, ২০০ মেট্রিকটন চাল এবং ৩ হাজার ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক ভূইয়া যুগান্তরকে বলেন, ঢল ও বর্ষণে নদ- নদীর পানি বাড়ছে। সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমার পানি বৃহস্পতিবার বিকেলে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৬৮ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঢল ও বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে জানান পাউবোর ওই কর্মকর্তা।