‘বাবা-মা, সন্তানের মুখই আমাকে শক্তি জুগিয়েছে’

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৩ জুলাই ২০১৯, ০৭:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথ দাশ
ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথ দাশ

ভারতের গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ দাশ ওরফে কানু দাশ। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ভারত সাগরের উপকূলে এক সপ্তাহ আগে তার মাছ ধরার ট্রলারটি ১৫ জন সঙ্গীসহ সাগরে ডুবে যায়।

ডুবে যাওয়ার পর ৬ দিন ধরে তিনি সাগরেই ভাসছিলেন এবং ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশ সীমানা কুতুবদিয়া অংশে ঢুকে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কেএসআরএম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং লিমিটেডের বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জাওয়াদের নাবিকরা।

রবীন্দ্রনাথ দাশের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। পেশায় জেলে। বাড়িতে তার বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে না খেয়ে, উত্তাল সাগরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি কীভাবে বেঁচে ফিরলেন, সেটাই সবাইকে অবাক করছে। তার সঙ্গে ছিল তার ভাইপোসহ ১৫ জন সহকর্মী। লাইফ জ্যাকেট থাকলেও তারা একে একে সবাই পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু বেঁচে ফিরেছেন রবীন্দ্রনাথ একাই।

শুক্রবার বিকালে পতেঙ্গার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি জেটিতে উদ্ধার করা জেলেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করা হয়।

এ সময় তার বেঁচে থাকার রহস্য জানা গেছে। তিনি জানান, বাবা, মা, ছেলে আর মেয়ের মুখই তার বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ দাশ বলেন, ‘উত্তাল সাগরে ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর বাঁশ ধরে ভাসছিলাম ১৫ জন মানুষ। আমি ছাড়া সবার লাইফ জ্যাকেট ছিল। একে একে তলিয়ে যাচ্ছিলেন সহকর্মীরা। সব শেষে ছিলাম ভাইপো আর আমি। উদ্ধারের ৩ ঘণ্টা আগে ভাইপো তলিয়ে গেল। যখন বৃষ্টি হতো হা করে পান করতাম। কিন্তু মাছ আমার বাহুতে, ঘাড়ে কামড়াচ্ছিলো। দিন রাত কখনো ঘুমাইনি। বাবা, মা, ছেলে আর মেয়ের মুখটি ভেসে উঠছিল।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যাদের সহযোগিতায় আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

বুধবার বেলা ১১টার দিকে এমভি জাওয়াদের কুতুবদিয়া অবস্থান করার সময় জাহাজের টিম সদস্যরা একটি লোককে সাগরে ভেসে থাকতে দেখে জাহাজের মাস্টারকে জানান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ নেভি এবং পোর্টকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানান। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে নেভি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা দ্রুত আসতে পারবে না বলে জানায়।

তখন জাহাজের নাবিকরা ওই জেলেকে সাগর থেকে উদ্ধার করে। তখন থেকে রবীন্দ্রনাথ দাশকে উদ্ধারকারী জাহাজেই চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছিল।

কেএসআরএম গ্রুপের সিইও মেহেরুল করিম বলেন, আমরা প্রতিকূল পবিবেশে সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় ভারতীয় ওই জেলেকে গভীর সাগর থেকে উদ্ধার করেছি। যদিও উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। রবীন্দ্রনাথ যেহেতু ভারতীয় নাগরিক তাই বেশকিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×