সিরাজগঞ্জে বাল্যবিয়ে বন্ধে এসিল্যান্ডের সেঞ্চুরি

  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ১৫ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান। ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জে দায়িত্ব পালনের ১৪ মাসে বাল্যবিয়ে বন্ধে সেঞ্চুরি করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান।

এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার টার্গেটগুলোর অন্যতম বাল্যবিয়ে বন্ধে তার এ অর্জন ইতিবাচকভাবে দেখছে জেলা প্রশাসনসহ সিরাজগঞ্জবাসী।

তার এ কৃতিত্বের জন্য ২৩ জুন আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছেন সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা।

আনিসুর রহমান যেখানেই দায়িত্বে ছিলেন সেখানেই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোরে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার ভেজাল বিরোধী অভিযান পুরো দক্ষিণ বঙ্গে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এ সময় তার তৎপরতায় ভেজাল কারবারীরা নিয়ম মানতে বাধ্য হন। এজন্য যশোরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

সোমবার সকালে ২০১৭ সালের শেষ দিকে তিনি বদলি হয়ে আসেন যমুনা নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায়। তিনি সেখানে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ সময় তিনি বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। দুটি ইলিশ প্রজনন মৌসুমে তিনি নিয়ম ভঙ্গকারী ১২৪ জনকে জেল জরিমানা করেন। চৌহালী উপজেলা থেকে সব পাবলিক পরীক্ষায় নকল পুরোপুরি দূর করেছিলেন। শুধু তাই নয়, চৌহালীতে ৭ মাসে ৩৪টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন তিনি।

এরপর বদলি হয়ে আসেন সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে। এখানে সাড়ে ৬ মাসে ৬৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন। তিনি ইতিমধ্যে একদিনে ৭টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।

এর মধ্যে পৌরসভায় ১৩টি, ইউনিয়ন পর্যায়ে খোকশাবাড়ীতে ৩টি, সয়দাবাদে ১২টি, কালিয়া হরিপুরে ১১টি, বাগবাটিতে ৯টি, রতনকান্দিতে ১০টি, বহুলীতে ৫টি, শিয়ালকোলে ২টি, ছোনগাছায় ১টি ও কাওয়াখোলায় ১টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

এদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির ১ জন, পঞ্চম শ্রেণির ৫ জন, ষষ্ঠ শ্রেণির ৩ জন, সপ্তম শ্রেণির ৪ জন, অষ্টম শ্রেণির ২৫ জন, নবম শ্রেণির ১৫ জন ও দশম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রী রয়েছে।

এ সময়ে বাল্যবিয়ে বন্ধে সদর উপজেলায় ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। অনেক ক্ষেত্রে বর ও কনের বাবার কাছ থেকে সন্তানরা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।

সিরাজগঞ্জের এ দুটি উপজেলায় মোট ১০১টি বাল্যবিয়ে নিজে উপস্থিত হয়ে বন্ধ করেছেন এ কর্মকর্তা।

সোমবার সকালে যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমি বাল্যবিয়ে বন্ধে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মা-বাবাদের বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে যাচ্ছি।

তিনি বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, মাদক ও জুয়া সম্পর্কে সচেতন করেন এবং সামাজিক এ ব্যাধিগুলো দূর করার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করে সামাজিক এ ব্যাধিগুলো সম্পর্কে তথ্য চান।

এ ছাড়া বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া অসহায় গরীব ৩ ছাত্রীর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

বিশিষ্টজনদের প্রত্যাশা সবাই যদি এই কর্মকর্তার মতো যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন তাহলে বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×