বোরহানউদ্দিনে বর্ণালী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯, ২২:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

  বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি

বর্ণালী হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবি: যুগান্তর

ঢাকার রামপুরার বনশ্রীতে গৃহবধূ বর্ণালী মজুমদার বন্যা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে তার জন্মস্থান ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা সদরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  বর্ণালীর সহপাঠী বোরহানউদ্দিন সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।  পরে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। 

এতে পৌর শহরের বিভিন্ন শেণি-পেশার মানুষ একাত্বতা প্রকাশ করেন।  মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বোরহানউদ্দিন সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম গজনবী, সহকারী অধ্যাপক রাখাল চন্দ্র মিস্ত্রী, বোরহানউদ্দিন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অনীল চন্দ্র দাস, বোরহানউদ্দিন উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক মো. বশির উল্লাহ, বোরহাউদ্দিন সরকারি মাধ্যামিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মো. নোমান প্রমুখ। 

এ সময় বক্তারা বর্ণালী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টিকারী ঢাকা ডিএমপি কমিশনার অফিসে কর্মরত এসআই দীপক দের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বর্ণালী হত্যার রাতেই বর্ণালীর স্বামী মিথুন দের (রাহুল) খালাতো ভাই এস আই দীপক যাতে রামপুরায় থানায় মামলা না হতে পারে, সেরজন্য আগে ভাগেই বর্ণালীর লাশ হাসপাতালের মর্গে ফেলে রেখে মিথুনকে থানায় নিয়ে আটকের নাটক সাজায়। 

বর্নালীর পরিবার থানায় মামলা দিতে গেলে রামপুরা থানা-পুলিশের আচরণের নিন্দা করে তারা অবিলম্বে বর্ণালী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেন অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়ায় হুমকি দেন।  

বর্ণালীর পরিবার ও স্বজনরা জানান, বর্ণালীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর স্বামী মিথুন দে রাহুল, শ্বশুর চুনি লাল দে,শাশুড়ি দিপ্তী রানী দে, দেবর প্রিতম চন্দ দে ও কাজের মেয়ে ছায়া রানী দাসকে (টুম্পা) আসামি করে মামলা দিতে গেলে রামপুরা থানার ওসি মো. কুদ্দুস ফকির বলেন, আপনারা যদি শুধু মিথুন দে রাহুলকে আসামি করে মামলা দেন, তাহলে মামলা নেব।  না হলে মামলা নেওয়া যাবে না।  পরে বাধ্য হয়ে মিথুনকে আসামি করেই মামলা দিতে হয়।  তারা বর্ণালী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

উল্লেখ্য গত ২ জুলাই রাতে বনশ্রী এ ব্লকের ২ নম্বর রোড সংলগ্ন নিজ বাসা থেকে রাত ১১ টার দিকে অচেতন অবস্থায় বর্ণালীর স্বামী মিথুন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।