বানভাসীদের কাছে কিস্তির টাকা এখন ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০১৯, ২২:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

কিস্তির তোলার জন্য বনে আছেন এনজিও কর্মকর্তা
কিস্তির তোলার জন্য বনে আছেন এনজিও কর্মকর্তা

কুড়িগ্রামে বন্যাকবলিত এলাকায় বানভাসীদের কাছ থেকে জোড়পূর্বক কিস্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসন থেকে দুর্যোগকালীন সময়ে ঋণ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পরামর্শ দেয়া হলেও তা মানছে না এনজিওগুলো।

উল্টো সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্দেশ পালন করছে বলে মাঠকর্মীরা সাফ জানিয়ে দেন। এ যেন ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’। এ নিয়ে নেই প্রশাসনের কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ।

বুধবার দুপুরে সরজমিন বেড়িবাঁধে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের উত্তর দিকে বইছে প্রমত্তা ধরলা নদী। নদী সংলগ্ন বাড়িগুলোতে কোমর সমান পানি। লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

সেখানে এনজিও থেকে একজন মাঠকর্মী দলের সদস্যদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক কিস্তি তুলছে। লোকজন বলছে টাকা নেই পরে দেব। কিন্তু মাঠকর্মী নাছোড়বান্দা। কিস্তি না নিয়ে যাবে না সে।

এখানে কথা হয় আর্জিনার সঙ্গে। তিনি জানান, আমাদের ২৪ জনের একটি গ্রুপ আছে। নাম ময়না। এদের অনেকই পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। কাজকর্ম না থাকায় টাকা দিতে পারছে না কেউই। কিন্তু মাঠকর্মী সেসব কথা শুনছে না।

গ্রামের ইদ্রিসের স্ত্রী জোসনা বলেন, স্বামী কুমিল্লায় রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ করতে গেছে। তারও কামাই নাই। শেষে ধার করে বিকাশে ৫শ টাকা পাঠাইছে। সেই টাকাও দিলাম।

চায়ের দোকানদার এলাহী বকস জানান, বন্যার কারণে দোকানে বিক্রি-বাটা নাই। কিন্ত এরা তো মানুষের সুখ-দুঃখ বোঝে না। টাকা যেখান থেকে পারি আনতে বলে।

কৃষক হক সাহেব বলেন, মুই কইছং টেকা দিবের পাবার নং। মোক খাঁইয়ো ধার দিবের চায় না। কামাই নাই। মুই এ্যালা টাকা পাং কোটে।

এরকম পরিস্থিতিতে নির্বিকারভাবে টাকা তুলছিলেন বেসরকারি একটি এনজিওর সিনিয়র লোন অফিসার বনি আমিন। তাকে বন্যাকালীন সময়ে কিস্তি না তোলার ব্যাপারে কথা বললে তিনি জানান, অফিসের আদেশে এসেছি। কোনো চাপ দেয়া হচ্ছে না। আপনারা আমাদের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেন। আমি তার নির্দেশে এসেছি।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) হাফিজুর রহমান জানান, এখানে বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদেরকে বন্যাকালীন সময়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তারা যদি মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে এমন কাজ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×