কেরানীগঞ্জে মানবপাচার চক্রের ১০ সদস্য গ্রেফতার, ৩ রোহিঙ্গা নারী উদ্ধার

  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি ১৯ জুলাই ২০১৯, ১১:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

কেরানীগঞ্জে মানবপাচার চক্রের ১০ সদস্য গ্রেফতার
কেরানীগঞ্জে মানবপাচার চক্রের ১০ সদস্য গ্রেফতার। ছবি-যুগান্তর

রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জে মানবপাচার চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা তিন রোহিঙ্গা নারী ও ২৫১টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাব ১০-এর উপঅধিনায়ক মেজর মো. আশরাফুল হক।

তিনি আরও জানান, র‌্যাবের কাছে তথ্য ছিল কেরানীগঞ্জে মানবপাচারকারী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ জন্য তারা গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেন।

একপর্যায়ে তারা জানতে পারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ বড় মসজিদসংলগ্ন পাগলা হোসেনের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন এমন এক দম্পতি রয়েছে, যারা রোহিঙ্গা পাচারের সঙ্গে জড়িত। পাচারের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের এনে সেখানে রাখা হতো।

বুধবার ওই বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি দল। এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা মুসফেকা (১৯), সান্ত্বনা (১৩) ও নুর বেগম (৪৮) নামে তিন রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করা হয়।

পরে তাদের স্বীকারোক্তিমতে বুধবার সারারাত ও বৃহস্পতিবার সারাদিন টানা অভিযান চালিয়ে রাজধানীসহ ঢাকার আশপাশ থেকে চক্রের আরও আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলেন- বগুড়ার শিবগঞ্জ থানাধীন দোপাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর মোল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৫২), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানাধীন হাসনাবা এলাকার মৃত হাসান আহম্মদের ছেলে মো. মানিক (৪৫), ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানাধীন বিশ্বাসবাড়ী গ্রামের মিন্টু বিশ্বাসের ছেলে রানা (৩৪), বরগুনা জেলার বেতাগী থানাধীন পূর্ব রানীপুর গ্রামের আবদুল খালেক হাওলাদারের দুই ছেলে আল মামুন (৩৫) ও হুমায়ুন কবির (৪৩), শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানাধীন আকসা এলাকার কাজী আব্দুল মান্নানের ছেলে কাজী মাহফুজুর রহমান মাসুদ (৪০), চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানাধীন ফইসারা গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে মো. ফারুক মিয়া (২৫), খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন কুলাটি গ্রামের সুদাংশু সরকারের ছেলে গৌরাঙ্গ সরকার (২৫)।

তিনি আরও জানান, চক্রটি বেশ বড় এবং শক্তিশালী। এরা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করেন। এক গ্রুপের কাজ হলো বিভিন্ন প্রলোভনে টেকনাফের রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির হতে রোহিঙ্গাদের বের করে আনা।

অপর চক্রের কাজ হলো ঢাকায় পৌঁছে দেয়া। পরের গ্রুপের কাজ হলো ঢাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে সেখানে রোহিঙ্গাদের রাখা।

এভাবে চক্রটি সারাদেশে জাল বিছিয়ে রেখেছে। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদেরও তারা পাচার করে থাকেন। সাধারণত মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তারা মানবপাচার করে থাকেন।

মেজর আশরাফুল হক জানান, চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতারের পর এদের কাছে সংরক্ষিত ২৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×