মুড়ি খেয়ে রাত কাটানো সেই ছেলেটিই উপজেলা সেরা

  মো. রইছ উদ্দিন, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ১৯ জুলাই ২০১৯, ২০:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

নাজিম উদ্দিন
নাজিম উদ্দিন। ফাইল ছবি

বিজয়োল্লাসে মিষ্টি জুটেনি। বাবা শুধু বললো ভালো, মা এ পাসের মর্ম বুঝেনি। মুড়ি খেয়ে রাত কাটানো ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সেই ছেলেটিই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার উপজেলা সেরা।

বিজ্ঞান শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে এই নাজিম উদ্দিন। গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় সেই একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে।

নাজিম উদ্দিনের বাবা আবদুল খালেক দিনমজুর আর বর্গাচাষী, এখন শয্যাশায়ী। মা ঝর্ণা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন। তাই ওর বেড়ে উঠার গল্পটা চ্যালেঞ্জিং।

তিন ভাই আর তিন বোনকে নিয়ে ৮ সদস্যের সংসার। রয়েছে মাথা গোঁজার মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ জমি। মেধা থাকলেও লালন করার সামর্থ্যহীন এ পরিবার।

তবে জয়ের যুদ্ধটা নাজিম উদ্দিনই শুরু করেছে। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের গিধাউষা গ্রামে।

গিধাউষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসিতে, গিধাউষা হাসন আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে। এবার গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় সেই একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে।

শুধু কলেজ নয়, এ উপজেলায় ৫টি সাধারণ কলেজ, ৫টি মাদ্রাসা ও ৬টি কারিগরি কলেজের মাঝে বিজ্ঞান বিভাগে একমাত্র সেই সেরা। যেখানে অংশ নেয় ৩ হাজার ছাত্রছাত্রী।

নাজিম উদ্দিনের বই কেনারও অর্থ নেই। উচ্চ বিদ্যালয়ে বই দেয়া ও বিনামূল্যে পাঠ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেন গিধাউষা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুজ্জামান ফকির বাবুল।

আর শৈশবে শিক্ষার শিকড়ে ভিত্তি স্থাপন করে দেন কবির আহাম্মেদ। যিনি এবার মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। কলেজে ভর্তির পর শুরু হয় ম্যাচ জীবন।

সবার টাকা আসে নাজিম উদ্দিন শুধু তাকিয়ে থাকে। ম্যাচে টাকা না দিলে খাবার জুটে না। দুদিন-তিনদিনও কেটে গেছে শুধু মুড়ি খেয়ে।

এ খবরটি পৌঁছে যায় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রুনা আক্তারের নিকট। মোবাইল ফোনে টুংটাং শব্দটা বেজে উঠলো। অপরপ্রান্ত থেকে শুধু বললো, বাসায় এসো।

তারপর মাতৃস্নেহে খাওয়ালেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য উৎসাহও যোগালেন। স্বপ্ন দেখালেন ইঞ্জিনিয়ার হতে। নিজেকে একটু স্বাবলম্বী করার জন্য শুরু করেন টিউশনিও।

কলেজেও তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল ওয়াদুদ।

২০ হাজার টাকার স্থলে মাত্র ৫ হাজার টাকায় উদ্ভাসে বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং করার সুযোগ করে দেন প্রিয় শিক্ষক আলা উদ্দিন। পাঠ্যক্রমে যেখানেই সমস্যা সমাধানে হাত বাড়িয়ে দেন আরেক প্রিয় শিক্ষক বিপুল কুমার পাল। নাজিম উদ্দিন জানায়, তার ইচ্ছা প্রকৌশলী হওয়া। সেই স্বপ্নের জন্য হাঁটচ্ছে সে। অসুস্থ বাবা আর ভারসাম্যহীন মায়ের নিকট এটা কল্পনাতীত, অবাস্তব। যা সফল করার জন্যই লড়াইয়ে করে যাচ্ছেন।

অপরদিকে তার আরেক বোন রাবেয়া আক্তার কেয়াও পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অধ্যয়ন করছে এইচএসসিতে। অভাবের সংসারে কারণেই বসতে হয়েছে বিয়ের পিঁড়িতে।

ছোটবোন আঁখি বেগম নবম শ্রেণি ও ছোট ভাই রাজন মিয়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। এ যেন নিষ্ক্রিয় এক অচল ট্রেনে মেধা ভাণ্ডারের কয়েকটি কোচ, শুধু প্রয়োজন লালন!

ঘটনাপ্রবাহ : এইচএসসি পরীক্ষা ২০১৯

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×