মৌলভীবাজার হাসপাতালে টানা হেঁচড়ায় গর্ভে নবজাতকের মৃত্যু!

  মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ১৯ জুলাই ২০১৯, ২০:২২ | অনলাইন সংস্করণ

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল। ফাইল ছবি

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে টানা হেঁচড়ায় মায়ের গর্ভে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জেলার সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ কুমরা-কাপন গ্রামের ভোক্তভোগী সুমনার স্বামী আউয়াল হাসান বলেন, রোববার সকালে তার প্রসুতি স্ত্রী সুমনাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন। এ সময় দায়িত্বরত নার্সরা সুমনার অবস্থা দেখে সিজারের পরামর্শ দেন। সিজারের জন্য ১ ব্যাগ রক্ত ও ওষুধ নিয়ে আসার কথাও তারা বলেন।

তিনি বলেন, নার্সদের পছন্দের ফার্মেসি থেকে ওষুধ ও রক্ত কিনে আনতে আউয়াল হাসানের সঙ্গে নার্সরা তাদের মনোনীত একজন লোক দেন। কিন্তু নার্সদের দেয়া ফার্মেসিতে দাম বেশি থাকায় আওয়াল নার্সের দেয়া ওই লোককে বিদায় করে তুলনামূলক কম দামের অন্য ফার্মেসি থেকে ওষুধ ও রক্ত নিয়ে আসেন।

নার্সদের দেয়া লোককে আউয়াল ফেরত পাঠানোতে ক্ষেপে যান তারা। পরে কৌশলে নরমাল ডেলিভারির কথা বলে সুমনাকে তার মা আছিয়া বেগমের কাছ থেকে ডেলিভারি কক্ষে নিয়ে যান নার্সরা।

সুমনার গর্ভের বাচ্চা তুলনামূল বড় থাকায় ডেলিভারির রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা বের করা সম্ভব হয়নি। এ সময় নার্সরা ভুলক্রমে আগে বাচ্চার হাত বের করেন। পরে মাথার কিছু অংশ বের করলে আটকে যায়।

আউয়াল হাসান বলেন, আমার মা নার্সদের এই অবস্থা দেখে আমাকে ডাকেন এবং চিৎকার দেন। এ সময় ১ জন নার্স রেখে বাকিরা পালিয়ে যায়।

কিছু সময় পরে একজন নার্স এসে আউয়ালকে বলেন, আপনার বাচ্চা মারা গেছে। স্ত্রীকে বাঁচাতে হলে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। একথা বলেই তিনিও পালিয়ে যান।

এ সময় আউয়াল স্ত্রীর অবস্থার অবনতি দেখে চিৎকার করলে শোয়েব নামের এক লোক আউয়ালকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় বলেন, এখানে চিৎকার করার জায়গা নয়, বাহিরে গিয়ে চিৎকার কর।

একটি সূত্র জানায়, সুয়েব নার্সদের নিয়োগকৃত দালাল। তখন আওয়াল তার স্ত্রীকে বাঁচাতে অর্ধেক বাচ্চা বের করা অবস্থায় প্রথমে শহরের নূরজাহান প্রাইভেট হাসপাতলে নিয়ে যান।

নূরজাহান কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হলে সুমনাকে পুরাতন হাসপাতল রোডের আল-হামরা প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে বিকাল ৫টায় ডা. হাদী হোসেন মৃত নবজাতককে কেটে কেটে বের করে আনেন।

টেনে হিঁচড়ে নবজাতককে মেরে ফেলার বিষয়টি অস্বীকার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথি দত্ত কানুনগো বলেন, ৩ জন গাইনি বিশেষজ্ঞ অনেক চেষ্টা করেও ডেলিভারি করতে পারেননি। পরবর্তীতে ওই রোগীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে রেফার করা হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×