‘বিকৃত মানসিকতা থেকেই সজিবকে গলাকেটে হত্যা করে রবিন’

  কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ১৯ জুলাই ২০১৯, ২১:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী

বিকৃত মানসিকতা থেকেই শিশু সজিবকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে মনের পুরনো কোনো জেদ বা বিকৃত মানসিকতা থেকেই সজিবের সঙ্গে নির্মম ও বর্বরোচিত এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মাঠে আছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই মূল রহস্য উদঘাটন হবে।

শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসপি জয়দেব চৌধুরী জেলাবাসীর প্রতি এ আহ্বান রেখেছেন।

পুলিশ সুপার বলেন, অপরিচিত হলেই সন্দেহ করে কাউকে মারা যাবে না। এ ধরনের ভুল সিদ্ধান্তে নিজেও অপরাধী বনে যেতে পারেন। এতে যে কাউকে দাঁড়াতে হতে পারে আইনের কাঠগড়ায়। এলাকা, পাড়া-মহল্লায় অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে আগে তার সঙ্গে কথা বলুন। নয়তো শুধু সন্দেহের জেরেই চলে যেতে পারে নিরীহ নিরাপদ ব্যক্তির জীবন।

তিনি বলেন, আগে পরিচয় সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হন। তারপর কোথাও সমস্যা মনে হলে পুলিশে দিন।

এ সময় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এসএম আশরাফুল আলম, মো. শাহ্জাহান মিয়া (অপরাধ), মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল (সদর সার্কেল), মডেল থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলেধরা নিয়ে যে ভীতি জেলাবাসীর মনে সৃষ্টি হয়েছে তা মন থেকে ঝেরে ফেলার পরামর্শ দিয়ে পুলিশ সুপার জয়দেব বলেন, নেত্রকোণা শহরের শিশু সজীবের দেহ বিচ্ছিন্ন মাথা কোনো অপরিচিত ব্যক্তির হাতে ছিল না। রবিন ছিল ওই শিশুরই প্রতিবেশি এবং এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্ত যুবক।

তিনি বলেন, যদি গণপিটুনি দিয়ে রবিনকে মেরে ফেলা না হতো তবে প্রকৃত ঘটনা পুলিশের মাধ্যমে অথবা সরাসরি তার মুখ থেকে দেশবাসী দ্রুত সময়েই শুনতে পারত। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেয়ার কারণে পুলিশ সেই সুযোগ পায়নি।

অপরাধ যে কেউ করতে পারে আর তার জন্য আইন-আদালত রয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীর বিচার হবে আদালতে। কিন্তু আইন কারো হাতে তোলে নেয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে সাধারণ মানুষের যে বিভ্রান্তি বা ভীতি ছড়িয়েছে তা কাটিয়ে সকলের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহ্জাহান মিয়াসহ বিভিন্ন স্থরের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার শহরের পূর্ব কাটলি এলাকার রঈছ উদ্দিনের শিশু সজিবের দেহবিচ্ছিন্ন মাথা প্রতিবেশি মাদকাসক্ত যুবক রবিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকার বাসিন্দা এখলাছ মিয়ার ছেলে রবিনকে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে।

ঘটনা জানাজানির পর পুলিশ কাটলি এলাকার কায়কোবাদ নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে শিশু সজীবের মস্তক বিচ্ছিন্ন দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শিশু ও যুবকের লাশগুলো নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×