‘বড় মামলার’ ভয় দেখিয়ে ৭১ হাজার টাকা আদায়

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৯ জুলাই ২০১৯, ২২:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

পুলিশ

চট্টগ্রামে মোরশেদুল আলম (৩৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে ‘বড় মামলার’ ভয় দেখিয়ে ৭১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

তারা হলেন, বায়েজিদ থানার এসআই সালাউদ্দিন খান নোমান ও এএসআই মো. ফোরকান।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বাকলিয়া থানার কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা থেকে এএসআই ফোরকান তাকে আটক করে। এ সময় মোরশেদের কাছে থাকা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়া হয়। আটকের পর নিয়ে যাওয়া হয় বায়েজিদ থানায়।

একদিন পর শুক্রবার দুপুরে মোরশেদকে ৮৮ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে থানা হাজতে আটক থাকা অবস্থায় বড় মামলার (মাদক, ডাকাতি) ভয় দেখিয়ে স্বজনদের মাধ্যমে আরও ৩০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করা হয়।

পরে মোরশেদকে আদালত থেকে জামিনে বের করে আনার জন্য আরও ১ হাজার টাকা নেয় এ দুই পুলিশ সদস্য। এভাবে ব্যবসায়ী মোরশেদের কাছ থেকে তিন ধাপে আদায় করা ৭১ হাজার টাকা।

ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোনো থানায় মামলাতো দূরের কথা কোনো থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও নেই। তাদের গ্রেফতারের স্থান নিয়ে পুলিশ আদালতে ভুল তথ্য দিয়েছে। তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বায়েজিদ থানার বাংলা বাজার এলাকায়। বায়েজিদ থানা থেকে আদালতে পাঠানো ফরোয়ার্ডিংয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বর্ণিত আসামীকে আজ ১৯ জুলাই রাত ৩ ঘটিকার সময় অত্র থানাধীন বাংলা বাজার এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় আটক করা হয়।’

যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃত মোরশেদুল আলম ও তার শ্যালক মারুফুল ইসলাম।

গ্রেফতার মোরশেদ সাতকানিয়া থানার বোয়ালিয়া পাড়া এলাকার মো. পাঠানের ছেলে। তিনি সাতকানিয়ায় মৎস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

মোরশেদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে একজন রোগীকে টাকা দিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। ওখান থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় দুপুর ১২টার দিকে এসআই নোমান ও এএসআই ফোরকান সাদা পোশাকে আমাকে কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা থেকে আটক করে বায়েজিদ থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি পরে আমি আমার পরিবারের কাছে জানাই।

মোরশেদের শ্যালক মারুফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘দুলাভাইকে পুলিশে আটক করেছে জানার পর আমরা থানায় যাই। যাওয়ার পর এএসআই ফোরকান আমাদের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। ১০ লাখ টাকা ঘুষ না দিলে ‘বড় মামলায়’ চালান করে দেয়ার হুমকি দেয়।

তিনি জানান, কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা থেকে সাদা পোশাকে দুলাভাইকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে বায়েজিদ থানা এলাকা থেকে আটক দেখানো হয়। বায়েজিদ থানায় নেয়ার পর ওসি আটক মোরশেদকে তার রুমে নেয়ার নির্দেশ দেন।

মারুফুল ইসলাম বলেন, ওসির রুমে যাওয়ার আগে এসআই নোমান আটক মোরশেদকে শিখিয়ে দেয় যে- আটকের সময় তোর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছি ওটা ওসি স্যারকে বলবি না। ওসি স্যার যদি তোকে জিজ্ঞাস করে তুই বলবি আমার কাছে একটি ছোট মোবাইল ছাড়া আর কোন কিছু ছিল না। তারপরও এসআই নোমান ও এএসআই ফোরকান ১০ লাখ টাকার কমে ছাড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। দর কষাকষি করতে করতে ১ লাখ টাকায় ছেড়ে দিতে রাজি হয়।

মোরশেদের পরিবারের সদস্যরা এত টাকা দিতে পারবে না জানিয়ে দেয়। পরে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় দালাল রফিকের মধ্যস্থতায় ৭০ হাজার টাকায় ৮৮ ধারায় চালান দিতে রাজি হয় এ দুই পুলিশ সদস্য।

এরপর আটকের সময় নেয়া ৪০ হাজার টাকা এবং রাতে আরও ৩১ হাজার টাকা এসআই নোমানের হাতে তুলে দেয়া হয়। এছাড়া টাকার মধ্যে ১ হাজার নেয়া হয় ৮৮ ধারায় জামিন করানো বাবদ। ১ হাজার টাকায় জামিন করানোর দায়িত্বও নেয় এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা, অভিযোগ করেন মারুফুল ইসলাম।

শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে মোরশেদকে আদালতে চালান দেয়া হয়। বেলা ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে তাকে তোলা হয়। আদালতে তাকে ৫০ টাকা জরিমানা করেন।

এএসআই মো. ফোরকান যুগান্তরকে বলেন, মোবাইল চোর সন্দেহে মোরশেদকে কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা থেকে আটক করেছিলাম।

মামলার ফরোয়ার্ডিং এ অন্য জায়গা দেখানো ও ৭১ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন- ‘এটা স্যাররা বলতে পারবেন। আমি কিছু জানি না।’

যোগাযোগ করা হলে এসআই নোমান টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বায়েজিদ থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার যুগান্তরকে বলেন, ‘অন্যায় করলে কারো ছাড় নেই। নিরীহ মনে হওয়ায় আমি মোরশেদকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে সেবা ও নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×