তালতলীতে পাগলির গর্ভে ভূমিষ্ঠ সন্তানটি কার?

  তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ২১ জুলাই ২০১৯, ২৩:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

পাগলি কোলে নবজাতক সন্তান
পাগলি কোলে নবজাতক সন্তান

পাগলিটাও মা হয়েছে কিন্তু বাবা হয়নি কেউ! পাগলির গর্ভের এ ভূমিষ্ঠ সন্তানটি কার! এ প্রশ্নই ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে উপজেলাবাসীর মুখে মুখে।

বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বারোঘর গ্রামে অজ্ঞাতনামা এক পাগলি শুক্রবার রাতে এক কন্যা শিশুর জন্ম দিয়েছে। এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে রোববার তালতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস পূর্বে অজ্ঞাতনামা ওই পাগলি তালতলী উপজেলার বারোঘর বাজারে এসে অবস্থান নেয়। ওই সময় থেকে ওই বাজারের বসবাস করে আসছে সে। বাজারের ব্যবসায়ীদের দেয়া খাবার খেয়ে দিনাতিপাত করছেন তিনি। শান্ত স্বভাবের হওয়ায় কেউ তাকে তাড়ায়নি।

গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পাগলিটা পেটের প্রচণ্ড ব্যথায় চিৎকার করতে থাকে। বাজারের কেউ ওই পাগলির ব্যথার যন্ত্রণা বুঝতে পারেনি।

পাগলির চিৎকারে স্থানীয় ডলি বেগম, সামের্তবান, ফাতিমা, ফিরোজা ও ময়না এগিয়ে আসে। তারা এসে পাগলির ব্যথার কারণ বুঝতে পারে। পরে পাগলিকে ফাতিমার বাড়িতে নিয়ে যায়।

প্রায় ঘণ্টা তিনেক পরে ওই পাগলি একটি ফুটফুটে কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। মা ও শিশুকন্যা দুজনই সুস্থ আছেন। সকাল হতে না হতেই শনিবার এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

ওইদিন থেকেই পাগলি ও তার নবজাতক কন্যা ফাতিমার বাড়িতে আবস্থান করছে। প্রতিদিন ওই নবজাতক ও পাগলিকে দেখার শতশত মানুষ ফাতেমার বাড়িতে ভিড় করছে।

পাগলির ওই বাচ্চাটিকে দত্তক নেয়ার জন্য ওই উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গির মাঝি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

রোববার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই পাগলি ও শিশুকন্যা সুস্থ আছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ ওই পাগলিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়নি। ওই পাগলি ও শিশুকন্যাকে দেখতে শত শত মানুষ আশ্রয়দাতা ফাতেমার বাড়িতে আসছে।

ওই পাগলিকে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে শিশুটির প্রকৃত বাবাকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছে দেখতে আশা মানুষগুলো।

আশ্রয়দাতা ফাতিমা বেগম বলেন, রাত দেড়টার দিকে ওই পাগলি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। আমি এখন ওই পাগলি ও তার নবজাতকে দেখাশোনা করছি। মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছে। এই নবজাতকের পিতৃপরিচয়টা উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।

তিনি বলেন, পাগলিটা আবোল-তাবোল কথা বলছে। তবে সে বলেছে তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কালিকা পুর গ্রামে। তার নাম রুবিনা ডাক নাম কুলসুম।

তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. এনায়েত সিকদার বলেন, শান্ত স্বভাবের ওই পাগলি গত দুই মাস ধরে বাজারে বসবাস করছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের দেয়া খাবার খেয়েই বেঁচে আছে। একজন পাগলের সঙ্গে যারা এ অপকর্ম করেছে তাদের বিচার দাবি করছি।

তালতলী থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়েছি। খোঁজ নিয়েছি মা ও শিশু সুস্থ আছেন।

তালতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ-খবর নিয়ে মা শিশুকন্যার ভালো থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ওই এলাকার স্বাস্থ্য সহকারী পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপায়ন দাশ শুভ বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। এখনই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×