বগুড়ায় বড় বোনকে হত্যা করে ছোট বোনকে বিয়ে, এবার শ্বশুরকে খুন!
jugantor
বগুড়ায় বড় বোনকে হত্যা করে ছোট বোনকে বিয়ে, এবার শ্বশুরকে খুন!

  বগুড়া ব্যুরো  

২১ জুলাই ২০১৯, ২৩:৩৪:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনটে জামাতা নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে যৌতুক না পেয়ে শ্বশুর দিনমজুর রুবেল আকন্দকে (৫৫) গলা কেটে হত্যার পর লাশ খালে নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে রুবেল আকন্দের বড় মেয়েকে হত্যার পর সন্তান লালন-পালনের অজুহাতে ছোট মেয়েকে বিয়ের অভিযোগ রয়েছে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার একটি খাল থেকে রুবেল আকন্দের লাশ উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় নিহতের লাশ সিরাজগঞ্জ থেকে ধুনটের বাড়িতে আনা হচ্ছিল। দাফনের পর মামলা হবে।

ঘটনার পর থেকে জামাই নাহিদ হাসান পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার নিমগাছি গ্রামের জাহেদুর রহমানের ছেলে নাহিদ হাসান প্রায় ১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী শিয়ালি গ্রামের দিনমজুর রুবেল আকন্দের মেয়ে রুমি আকতারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে এক মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ রুমি আকতারের মৃত্যু হয়।

ওই সময় নাহিদ দাবি করেছিল রুমিকে জিনে হত্যা করেছে। ওই মেয়ে সন্তানকে দেখভাল করার জন্য নাহিদ প্রায় দেড় বছর আগে রুমির ছোট বোন শ্যালিকা রুমা আকতারকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় নাহিদ হাসান কৌশলে শ্বশুরের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেন।

কিছুদিন ধরে নাহিদ শ্বশুরের কাছে আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছেন। শ্বশুর শিয়ালি গ্রামের শাহাজাহান আলীর ছেলে দিনমজুর রুবেল আকন্দ টাকা দিতে না পারায় জামাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। শ্বশুরকে কয়েকবার হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছিল।

এদিকে বুধবার সকালের দিকে নাহিদ তার শ্বশুরের সঙ্গে অসুস্থ শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তির জন্য বাড়ি থেকে বের হন। শাশুড়িকে হাসপাতালে ভর্তির পর জামাই ও শ্বশুর ধুনটের দিকে রওনা হন। এরপর থেকে জামাই ও শ্বশুর লাপাত্তা হন।

শুক্রবার সকালের দিকে আতিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় খালের পানিতে এক ব্যক্তির ভাসমান লাশের ছবি পোস্ট দেন। ফেসবুকে ছবি দেখে মেয়ে রুমা আকতার লাশটি তার বাবা রুবেলের বলে শনাক্ত করেন। পরে বিষয়টি ধুনট থানায় অবহিত করা হয়।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, যৌতুক না পেয়েই জামাই নাহিদ তার স্বামীকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া তার বড় মেয়ে রুমিকেও হত্যা করেছিল। লাশ দাফনের পর তিনি এ ব্যাপারে ধুনট থানায় মামলা করবেন।

ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, দিনমজুর রুবেলকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নশিপুর বেলতলা গ্রামে গলা কেটে হত্যার পর লাশ খালে ফেলে দেয়া হয়। কেউ লাশ উদ্ধার না করলে ভেসে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলে যায়।

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ফেসবুকে ছবিটি শেয়ার করলে পরিবারের সদস্যরা রুবেলের লাশ শনাক্ত করেন। এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে যৌতুক নিয়ে বিরোধে জামাই নাহিদ তাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। নাহিদের বিরুদ্ধে বড় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। রোববার বিকালে সিরাজগঞ্জ মর্গ থেকে রুবেলের লাশ ধুনটের বাড়িতে আনা হচ্ছিল। লাশ দাফনের পর নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম ধুনট থানায় হত্যা মামলা করবেন।

বগুড়ায় বড় বোনকে হত্যা করে ছোট বোনকে বিয়ে, এবার শ্বশুরকে খুন!

 বগুড়া ব্যুরো 
২১ জুলাই ২০১৯, ১১:৩৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনটে জামাতা নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে যৌতুক না পেয়ে শ্বশুর দিনমজুর রুবেল আকন্দকে (৫৫) গলা কেটে হত্যার পর লাশ খালে নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে রুবেল আকন্দের বড় মেয়েকে হত্যার পর সন্তান লালন-পালনের অজুহাতে ছোট মেয়েকে বিয়ের অভিযোগ রয়েছে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার একটি খাল থেকে রুবেল আকন্দের লাশ উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় নিহতের লাশ সিরাজগঞ্জ থেকে ধুনটের বাড়িতে আনা হচ্ছিল। দাফনের পর মামলা হবে।

ঘটনার পর থেকে জামাই নাহিদ হাসান পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার নিমগাছি গ্রামের জাহেদুর রহমানের ছেলে নাহিদ হাসান প্রায় ১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী শিয়ালি গ্রামের দিনমজুর রুবেল আকন্দের মেয়ে রুমি আকতারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে এক মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ রুমি আকতারের মৃত্যু হয়।

ওই সময় নাহিদ দাবি করেছিল রুমিকে জিনে হত্যা করেছে। ওই মেয়ে সন্তানকে দেখভাল করার জন্য নাহিদ প্রায় দেড় বছর আগে রুমির ছোট বোন শ্যালিকা রুমা আকতারকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় নাহিদ হাসান কৌশলে শ্বশুরের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেন।

কিছুদিন ধরে নাহিদ শ্বশুরের কাছে আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছেন।  শ্বশুর শিয়ালি গ্রামের শাহাজাহান আলীর ছেলে দিনমজুর রুবেল আকন্দ টাকা দিতে না পারায় জামাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। শ্বশুরকে কয়েকবার হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছিল।

এদিকে বুধবার সকালের দিকে নাহিদ তার শ্বশুরের সঙ্গে অসুস্থ শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তির জন্য বাড়ি থেকে বের হন। শাশুড়িকে হাসপাতালে ভর্তির পর জামাই ও শ্বশুর ধুনটের দিকে রওনা হন। এরপর থেকে জামাই ও শ্বশুর লাপাত্তা হন।

শুক্রবার সকালের দিকে আতিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় খালের পানিতে এক ব্যক্তির ভাসমান লাশের ছবি পোস্ট দেন। ফেসবুকে ছবি দেখে মেয়ে রুমা আকতার লাশটি তার বাবা রুবেলের বলে শনাক্ত করেন। পরে বিষয়টি ধুনট থানায় অবহিত করা হয়।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, যৌতুক না পেয়েই জামাই নাহিদ তার স্বামীকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া তার বড় মেয়ে রুমিকেও হত্যা করেছিল। লাশ দাফনের পর তিনি এ ব্যাপারে ধুনট থানায় মামলা করবেন।

ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, দিনমজুর রুবেলকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নশিপুর বেলতলা গ্রামে গলা কেটে হত্যার পর লাশ খালে ফেলে দেয়া হয়। কেউ লাশ উদ্ধার না করলে ভেসে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলে যায়।

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ফেসবুকে ছবিটি শেয়ার করলে পরিবারের সদস্যরা রুবেলের লাশ শনাক্ত করেন। এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে যৌতুক নিয়ে বিরোধে জামাই নাহিদ তাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। নাহিদের বিরুদ্ধে বড় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। রোববার বিকালে সিরাজগঞ্জ মর্গ থেকে রুবেলের লাশ ধুনটের বাড়িতে আনা হচ্ছিল। লাশ দাফনের পর নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম ধুনট থানায় হত্যা মামলা করবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন