মেয়েকে ভর্তির জন্য স্কুলের খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন তাসলিমা

  লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০১৯, ০০:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনু ও তার মেয়ে তুবা
গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনু ও তার মেয়ে তুবা। ফাইল ছবি

ছেলেধরা সন্দেহে ঢাকার বাড্ডায় গণপিটুনিতে মারা যান তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। তিনি কি আসলেই ছেলেধরা ছিলেন- এ বিষয়ে কেউ বুঝতে চাননি। পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাকে।

তাসলিমা সেদিন মেয়েকে ভর্তির স্কুলের খোঁজ নিতে ঢাকার বাড্ডা গিয়েছিলেন।কিন্তু জানতেন না এই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া হবে।কয়েকজন বিবেকহীন মানুষের গুজবের বলি হয়েছেন তিনি।

শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।তিনি মোটেই ছেলেধরা ছিলেন না। ছিলেন সংগ্রামী এক নারী। নিজের মেয়েকে কোন স্কুলে ভর্তি করবেন তার খোঁজ গিয়েছিলেন তাসলিমা।

শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মুহুর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভগ্নিপতি বদিউজ্জামান বলেন, অভিভাবকরা সন্তান ভর্তি করার জন্য স্কুলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে গুজব ছড়িয়ে একজন শিক্ষিত-সংগ্রামী নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করতে হবে। এ সভ্য সমাজে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন আর কোনো মানুষ এভাবে গুজবের বলি না হয়।

জানা গেছে, রেনুরা এক ভাই ও পাঁচ বোন। সে সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। প্রাইভেটও পড়াতেন তিনি। পারিবারিক কলহের কারণে দুই বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তার।

বিচ্ছেদের পর ছেলে তাসফিক আল মাহি (১১) বাবার সঙ্গে থাকে। মেয়ে তাসলিমা তুবা (৪) থাকতো মায়ের কাছে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে বড় ভাই আলী আজগরের কাছে আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল রেনুর। আমেরিকা যাওয়া হল না তার। নির্মম মৃত্যুতে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় রেনুর লাশ বাড়িতে আনা হলে বৃদ্ধা মা ছবুরা খাতুনসহ স্বজনদের মাতম আর আহাজারিতে আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×