ফূর্তির সঙ্গেও নুসরাতের মতো আচরণ করেন অধ্যক্ষ সিরাজ

  ফেনী প্রতিনিধি ২৫ জুলাই ২০১৯, ২১:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

ফেনীর বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকা জোবায়েরের দেখানো মতে পিবিআই কর্মকর্তারা ডাঙ্গিখাল থেকে উদ্ধার করেন। বোরকাটি হত্যাকাণ্ডের সময় জোবায়েরের পরনে ছিল।

রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পরপরই বোরকাটি এখানে খুলে রেখে জোবায়ের পালিয়ে যায় বলে জেনেছি। ঘটনার সময় আমাদের ডেকে এনে জব্দ তালিকায় সাক্ষ্য নেন পিবিআই।

বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এমন সাক্ষ্য দিয়েছেন উক্ত মাদ্রাসার প্রভাষক আবুল কাসেম।

এ সময় অপর সাক্ষীরাও বোরকা উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন বলে আদালতকে জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

পরে বেলা ১১টা থেকে বিকাল পর্যন্ত আইনজীবীরা সাক্ষী প্রভাষক আবুল কাসেম, সেলিম রেজা, মো. শাহজাহান, মো. এমদাদ হোসেনের জেরা করেন।

এ মামলায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫১ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

আগামী রোববার ফেনী জেলা কারাগারের জেলসুপার রফিকুল কাদের, কারারক্ষী সুদির রঞ্জন ত্রিপুরা, মো. শাহনেওয়াজ, মো. রফিক, মো. গোলাম মাওয়ালা, মোশারফ হোসেনকে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে।

জেলা জজ আদালতের সরকারী কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ ও বাদীর আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আরবি ও কোরআন হাদিসের প্রভাষক সাক্ষী আবুল কাসেম আদালতকে জানান, শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুরুদ্দিন জোর করে রাফির যৌন হয়রানির মামলায় আটক অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করান। অধ্যক্ষ মুক্তির পর যারা সহযোগিতা করবে না তাদের চাকরি থাকবে না বলে হুমকি দেয়। রাফির ঘটনার দুই মাস পূর্বে অধ্যক্ষ সিরাজ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নাসরিন সুলতানা ফুর্তির সঙ্গেও একই আচরণ করেন।

আবুল কাসেম জানান, ফুর্তির পিতা সিরাজুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ করেন। আমি ও শিক্ষক বেলায়েত হোসেন, হাসান আহম্মদ ফুর্তির বাবাকে বিচার চাইতে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে আমরা তিন শিক্ষককে চাকরি খাইবে বলে হুমকি দিয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন।

তিনি জানান, আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুরুদ্দিন পরীক্ষার পূর্বে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করত। পরীক্ষার হলে নকল করার সুব্যবস্থা করার নামেও টাকা আদায় করত।

ওই শিক্ষক জানান, শাহাদাত হোসেন শামীম, নুরুদ্দিন, জাবেদ ও জোবায়ের হোসেন নিয়মিত মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে নারী শিক্ষার্থীদেরকে যৌন হয়রানি করত। এ নিয়ে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী কোনো কথা বলার সাহস পেত না।

সাক্ষীরা জানান, ৪ মে দুপুরে শামিমের দেখিয়ে দেয়া মাদ্রাসা পুকুর থেকে নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেয়ার সময় তার ব্যবহৃত বোরকা উদ্ধার করে পুলিশ। সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসানসহ একাধিক আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেন।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগ পত্রের ১৬ আসামি হলেন- মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ,সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিংবডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পিবিআই অন্য ৫ জনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করলে আদালত তা অনুমোদন করেন।

গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাত রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রণ শুরু হয়। এ মামলার চার্জশিট জমা দেয়ার আগে ৭ জন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ মামলায় গ্রেফতারকৃত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×