স্বাধীনের যে আশ্বাসের কথা মনে করে কাঁদছেন তার ভাই

  যুগান্তর ডেস্ক ২৮ জুলাই ২০১৯, ১৫:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

স্বাধীনের সে আশ্বাসের কথা মনে করে কাঁদছেন তার ভাই
ডেঙ্গুজ্বর মারা যাওয়া ঢাবিছাত্র ফিরোজ কবীর স্বাধীন, ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক মাস ১০ দিন লড়াই করে ডেঙ্গুজ্বরের কাছে পরাজিত হলেন ঢাবি শিক্ষার্থী ফিরোজ কবির স্বাধীন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতলে তার মৃত্যু হয়।

স্বাধীনের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁয়ে। শোকে বিহ্বল পরিবারের সদস্যরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র ছিলেন স্বাধীন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪১৪ নম্বর কক্ষে থেকে পড়াশোনা করতেন তিনি।

তার রুমমেট লোকপ্রশাসন বিভাগের সুমন রহমান জানান, দরিদ্র পরিবারের ছেলে ছিলেন স্বাধীন। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল আকাশচুম্বী। সে লক্ষ্যে পড়াশোনাও করছিল সে। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটে নবম হয়েছিল স্বাধীন। খুব মেধাবী ছাত্র ছিল সে। পড়ালেখা শেষে ভালো চাকরিতে ঢুকে কৃষক বাবার সংসারের হাল ধরবেন বলে স্বপ্ন ছিল তার।

কিন্তু সে স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে গেল বলে কেঁদে ফেলেন সুমন রহমান।

আপ্লুত কণ্ঠে সুমন আরও জানান, গ্রামে স্বাধীনের বড় ভাই ও বাবা কৃষিকাজ করেন। কিছু দিন আগে সে তার বড় ভাইকে বলেছিল- ‘ধানের দাম কম ভাই। তোমারে আমি ক্ষেতে যাইতে দেব না। আমি ৭০ হাজার টাকার বেতনের চাকরি করব। তোমাকে ভালো রাখব।’

সে কথার স্মৃতিচারণ করলেন স্বাধীনের বড় ভাই ফজলুল করিম। শুক্রবার রাতে ছোট ভাইয়ের শেষ কথাগুলো মনে করে হাসপাতালের করিডরে আহাজারি করে তিনি বলছিলেন, ভাই তোর কিছু করা লাগবে না। তুই আয়। আমি মাকে কী কমু!

পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলের ওপর আদর, ভালোবাসা একটু বেশিই ছিল তাদের। স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউর খরচ জোগাড় করতে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন স্বাধীনের বাবা।

উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে দ্রুত ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

কিন্তু ঠাকুরগাঁও পৌঁছানোর আগে মাঝপথেই তিনি ছেলের মৃত্যু সংবাদ পান বলে জানান সুমন রহমান।

স্বাধীনের সহপাঠী শরিফুল ইসলাম জানান, সদা হাস্যোজ্জ্বল ছিল স্বাধীন। তার চোখে ছিল পরিবারকে উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করার স্বপ্ন। অথচ তার জীবনই কেড়ে নিল ডেঙ্গু।

ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষক বাবা ও ভাইকে নিয়মিতই সান্ত্বনা দিয়ে আসছিল স্বাধীন। সংসার চালাতে শুধু কৃষিকাজের আয়ের দিকে আর তাকিয়ে থাকতে হবে না বলে আশ্বাস দিচ্ছিলেন তিনি।

তবে বাবা সে কথা শুনতে চাননি। স্বাধীনের চাচাতো ভাই রিমন জানান, পড়াশোনা শেষ করে বড় চাকরির কথা বললেও স্বাধীনের বাবা বলেছিলেন, এখন নয়, পাস করে বিসিএস দিয়ে বড় কোনো অফিসার হও। দেশের সেবায় নিয়োজিত করো নিজেকে। আল্লাহ আমাদের চালিয়ে নিবেন।

গত ১৮ জুন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন স্বাধীন। এর পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে তার পরিবার এসে তাকে দিনাজপুর মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফের ঢামেকে নিয়ে আসেন তার বড় ভাই।

এর পর উন্নতর চিকিৎসার জন্য শুক্রবার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় স্বাধীনকে। সেখানে ২২ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর পর পরিবার যখন শোকে হতবিহ্বল তখন স্কয়ার হাসপাতাল স্বাধীনের চিকিৎসা ব্যয়ের হিসাবে এক লাখ ৮৬ হাজার টাকা বিল ধরিয়ে দেয়। যেখানে শুধু ওষুধ বাবদই দেখানো হয়েছে ৩২ হাজার টাকা।

মাত্র ২২ ঘণ্টায় এত টাকা বিল কী করে হলো এমন প্রশ্নে সমালোচনা চলতে থাকে ফেসবুকজুড়ে।

এর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডাকসুর নেতারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা বিলের হিসাব চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো তা দিতে পারেনি।

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×