নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন জেল সুপার

  ফেনী প্রতিনিধি ২৮ জুলাই ২০১৯, ২২:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ের করা মামলায় ফেনীর জেল সুপার রফিকুল কাদেরসহ আরও ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে রোববার তিনি ছাড়াও ডেপুটি জেলার মনির হোসেন,কারারক্ষী মো. শাহনেওয়াজ,মো. রিপন ও ছবি রঞ্জন ত্রিপুরা এবং মোশারেফ হোসেন ও মো.গোলাম মাওলার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ ও বাদীর আইনজীবী শাহজাহান সাজু যুগান্তরকে বলেন,নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত বাদীসহ ৫৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার ফেনীর জেল সুপার রফিকুল কাদের ও ডেপুটি জেলার মনির হোসেনসহ ৭ জন আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

তিনি আরও বলেন,২৯ জুলাই সোমবার নুসরাতের পিতা একেএম মুসা মানিক,মোহাম্মদ আলী ও সৈয়দ সেলিমের সাক্ষ্য প্রদানের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

ডেপুটি জেল সুপার আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন,২০১৭ সালের ৭ সেপ্টম্বর থেকে আমি ফেনী কারাগারের ডেপুটি জেল সুপার হিসেবে কর্মরত আছি।কারাগারের সাক্ষাৎকক্ষের রেজিস্ট্রারটি আমি রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকি। গত ১৬ মে দুপুরে পিবিআই কর্মকর্তারা কারাগারে এসে ওই রেজিস্ট্রারটি জব্দ করেন।যেখানে সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের মামলায় আটক ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারীদের তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল। এ রেজিস্ট্রারে কারাগারে প্রতিদিনের সাক্ষাণকারীদের তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হয়বলে আমার কাছে জিম্মায় রাখি।’

কারা সদস্য মো.রিপন আদালতকে জানান,১ এপ্রিল হত্যা মামলায় আটক আসামি শাহাদাত হোসেন শামিম,নুর উদ্দিন,হাফেজ আবদুল কাদের এক নারী সদস্যের সঙ্গে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

কারাসদস্য ছবি রঞ্জন ত্রিপুরা আদালতকে বলেন,একই দিন-দুপুরে নুরউদ্দিন,শাহাদাত হোসেন শামিম,হাফেজ আবদুল কাদের ও বিবি জোহুরা দুপুর দেড়টায় অধ্যক্ষ সিরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

৩ এপ্রিল দুপুরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো.হোসাইন, জাবেদ হোসেন, রানা,শাহাদাত হোসেন শামিম অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।এ সময় তাদের সঙ্গে আরও অনেকে ফেনী জেলা কারাগারের ওয়েটিং রুমে অবস্থান করেছেন।

আসামী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু,কামরুল হাসান ও আহসান উল্লা বেঙ্গল যুগান্তরকে জানান,কারাগারের এ সব সাক্ষী রাষ্ট্রীয় সাক্ষী।এ সব সাক্ষী মামলার ন্যায় বিচারের কাজে আসবে না। এ দিয়ে কাল ক্ষেপণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা ও মোশাররফ হোসেন আদালতে প্রায় একই বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, গত ৮ মে পিবিআই কর্মকর্তারা নুসরাত হত্যা মামলার আসামি শামীম,যোবায়ের ও জাবেদকে নিয়ে মাদ্রাসার সাইক্লোন সেল্টারের দ্বিতীয় তলার অধ্যক্ষের রুমের সামনে যায়।সেখানে একটি ওয়াল ক্যাবিনেট থেকে একটি কাঁচের গ্লাস জব্দ করা হয়।জব্দ তালিকায় আমরা স্বাক্ষর করি।ওই সময়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদ জানায়,ওই গ্লাসে কেরোসিন ভরে নুসরাতের গায়ে ঢেলে আগুন লাগানো হয়।’

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বেচ্চ শাস্তি দাবি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা,নূর উদ্দিন,শাহাদাত হোসেন শামীম,উম্মে সুলতানা পপি,কামরুন নাহার মনি,জাবেদ হোসেন,আবদুর রহিম ওরফে শরীফ,হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ,এমরান হোসেন মামুন,ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×