মহেষখোলা সীমান্তনদী যেন ভারতীয় চোরাচালানের ভাসমান ডিপো

  হাবিব সরোয়ার আজাদ, মহেষখোলা (সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা) সীমান্ত থেকে ফিরে ৩০ জুলাই ২০১৯, ১৬:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

মহেষখোলা (সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা) সীমান্ত থেকে তোলা। ছবি: যুগান্তর
মহেষখোলা (সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা) সীমান্ত থেকে তোলা। ছবি: যুগান্তর

৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) বাংলাদেশ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মহেষখোলা বিজিবি ক্যাম্পের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সীমান্ত নদী মহেষখোলার দু’তীর যেন সারি সারি ভারতীয় বাঁশ চিপ, নলি, বেত ও গোলকাঠ চোরাচালানের ভাসমান ডিপোতে পরিণত হয়েছে।

দিবারাত্রি এ নদী পথকে চোরাচালানরা প্রকাশ্যে চালা বাঁধা ভারতীয় গোলকাঠ, বাঁশ, চিপ, নলি, বেত চোরাচালানের নৌ রুট হিসাবে প্রকাশ্যে ব্যবহার করে আসলেও নদী তীরে থাকা মহেষখোলার দায়িত্বশীলরা অপর দিকে থাকা মোহনপুর বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বশীলরা চোরাই মালামাল আটকে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে সীমান্তবাসী অভিযোগ তুলেছেন।

সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার একদল সংবাদকর্মী সরজমিনে শুক্রবার বিকেলে মহেষখোলা সীমান্ত নদী পথে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার মধ্যনগরের মহেষখোলা শহীদ স্মৃতি সৌধে যাবার পথে তাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে নদীর দু’তীরে চালা বাঁধা থাকা শতাধিক ভারতীয় বাঁশ, চিপ, নলি, বেত ও কয়েকটি গোলকাঠের চালার দৃশ্য।

স্থানীয় লোকজন জানান, নদীর পশ্চিম তীরেই রয়েছে নেত্রকোনা ৩১-বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের কলমাকান্দা উপজেলার মহেষখোলা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিজিবি ক্যাম্প)। অপরদিকে নদীর পূর্ব তীর থেকে মহেষখোলা বাজার পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী মোহনপুর সীমান্তফাঁড়ি (বিজিবি) কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এলাকা।

তাদের অভিযোগ, মহেষখোলায় প্রকাশ্যে দিবারাত্রি এলাকার চোরাচালানরা প্রকাশ্যে ভারতীয় গোলকাঠ, বাঁশ, চিপ, নলি, বেত জাতীয় চোরাই মালামাল নৌ-রুট ব্যবহার করে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা এসব মালামাল নিয়ে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার মধ্যনগরের থানা সদর, মহেষখোলা, দাতিয়াপাড়া, ধর্মপাশা সদরবাজার, নেত্রকোনার কলমাকান্দার বিশরপাশা ও কলমাকান্দা সদর বাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার হাটবাজার ও করাত কলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একদল সীমান্তবাসী জানান, মহেষখোলা সীমান্ত নদীর দু’তীর সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলাকে বিভাজন করেছে। এ নদীর মধ্যপশ্চিম জলরাশী তৎসহ পশ্চিমতীর থেকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মহেষখোলা বিজিবি ক্যাম্প ও উপজেলা প্রশাসনের আওতাভুক্ত এবং নদীর মধ্যপূর্ব জলরাশী তৎসহ পূর্বতীর থেকে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার আওতাভুক্ত।

অপরদিকে নদীর পূর্বতীর মহেষখোলা বাজারসহ মধ্যনগর থানা ও মোহনপুর বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এলাকা। শনিবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের মহেষখোলা বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার শহিদুল ইসলামের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এসব বাঁশ, বেত, কাঠ বা চিপের চালানগুলো স্থানীয় এলাকা থেকে কিনে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান। আবার কোন কোন সময় চোরাই পথে ভারত থেকেও কিছু কিছু বাঁশ বেত, চিপ, কাঠ নিয়ে আসে সেগুলো আমরা মাঝে মাঝে আটকও করি। তিনি আরও বলেন, মহেষখোলা নদীটি আমাদের ব্যাটালিয়নের মোহনপুর বিজিবি ক্যাম্পের আওতাভুক্ত এলাকা। এরপর শনিবার রাত ১০টার ভেতর সব ধরণের বাঁশ বেত চিপ নদী থেকে সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেবেন বলে জানান বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার।

পরবর্তীতে সন্ধ্যায় নেত্রকোনা ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের মোহনপুর বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে একই প্রসঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এসব বিষয় মোবাইল ফোনে কিছু বলা যাবে না। একদিন ক্যাম্পে আসেন সাক্ষাতে আসেন আলাপ হবে। এরপর আবারো একই বিষয় অবহিত করলে তিনি মহেষখোলাবাজার ও নদীর পূর্বতীর আমার বিজিবি ক্যাম্পের আওতাভুক্ত এলাকা বলে স্বীকার করেন।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার মধ্যনগর থানার ওসি মো. সেলিম নেওয়াজের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমান্তের ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার এলাকা বিজিবির আওতাভুক্ত এলাকা। তাই বাঁশ, কাঠ, বেত যাই সীমান্তের ওপার থেকে এপারে আসুক সেসব চোরাই মালামাল। মহেষখোলা কিংবা মোহনপুর বিজিবি ক্যাম্পের লোকজন আটক করলে আমার থানাতেই মামলা করতে আসেন।

এসব চোরাই মালামাল আটকের বিষয়টি থানা পুলিশের দায়িত্বে ভেতর পড়ে কী না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখি বিজিবিকে বলব এসব বিষয়ে তৎপর হতে।

নেত্রকোনা ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল শাহজাহান সিরাজের নিকট এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি শনিবার রাত ৮টায় যুগান্তরকে বলেন, এসব সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় কাঠ আসে বলে জানি এবং সেগুলো বিজিবি আটক করে কিন্তু বাঁশ, বেত বা চিপ ভারত থেকে চোরাই পথে আসে এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তারপরও খোঁজ নিয়ে দেখব।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×