নুসরাত হত্যায় সাক্ষ্য দিলেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২২:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  ফেনী প্রতিনিধি

নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে আসামি পক্ষের কৌঁসুলিরা তাকে জেরা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, আদালতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন এ হত্যা মামলার সাত আসামি ও ছয়জন সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

গত ৩১ জুলাই ও ১ আগস্ট আদালত তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। পরে রোববার আদালতে আসামিপক্ষের সিনিয়র কৌঁসুলি গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, আহসান বেঙ্গেল তাকে জেরা করেন।

বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি গ্রহণের নিয়ম-কানুন মেনে করা হয়েছিল কী না জানতে চেয়েছিলেন। সব নিয়ম মেনেই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে বলে আদালতকে জানান।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার সময় আসামিদের ৩ ঘণ্টা সময় দিতে হয় সেটি দেয়া হয়নি, আসামিদের জবানবন্দি নেয়ার আগে এটি তাদের বিপক্ষে যাবে তা অবহিত করা হয়নি ও ১ বৈশাখের দিন আদালত বন্ধ থাকার পরও কীভাবে জবানবন্দি নিয়েছেন তা জানতে চান।

জাকির হোসাইন বলেন, আসামিদের পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়েছে ও তাদের সব বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বন্ধের দিনে জবানবন্দি নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই দিন আদালতে আমার দায়িত্ব ছিল বলে আমি জবানবন্দি নিয়েছি।

এর আগে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন বলেন, গত ৬ এপ্রিলের ঘটনার পর বিভিন্ন সময় মামলার সাতজন আসামি আমার কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আমি সব নিয়ম-কানুন মেনে এই সাত আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করি। এ ছাড়া মামলার ছয়জন সাক্ষীও আমার কাছে ১৬৪ ধারায় বয়ান দিয়েছিলেন।’

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১২ জন হত্যার দায় স্বীকার করে বিচারিক হাকিমদের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। সে জন্যই দুই বিচারিক হাকিমকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।

গত ২৭ জুন থেকে এ মামলার সাক্ষ্য কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুর পর থেকে প্রতি কর্মদিবসে আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করছেন।

জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত বাদীসহ ৭৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার ফেনীর আরেক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী পিবিআইয়ের ওসি মো. শাহ আলম বলেন, সাক্ষগ্রহণ চলাকালে আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামি উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে তাদের আদালতে আনা হয়।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।