কোচিং সেন্টারে শিশুদের নেশা জাতীয় পানীয় খাওয়ানোর অভিযোগ

  জামালপুর প্রতিনিধি ০৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

সরোয়ার হোসেন
সরোয়ার হোসেন

জামালপুর শহরের মিয়াপাড়ায় একটি কোচিং সেন্টারে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নেশাজাতীয় দ্রব্য মেশানো কোমল পানীয় খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া ইউটিউবে এ অশ্লীল ভিডিও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কোমল পানীয়র সঙ্গে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো এবং অশ্লীল ভিডিও দেখানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবকদের মাঝে।

জামালপুর শহরের মিয়াপাড়ায় নতুন কুড়ি কোচিং সেন্টারে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হয়। এই কোচিং-এ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাত শতাধিক।

চতুর্থ শ্রেণির বালক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা জানায়, ক্লাসের ইংরেজি শিক্ষক সরোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোরপূর্বক কোমল পানীয় বাইরে থেকে ক্রয় করে আনতে বাধ্য করে। শিশুদের এনে দেয়া এ সব পানীয়র সঙ্গে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে শিশুদের খাওয়ানো হয়। না খেলে শিশুদের ডাস্টার দিয়ে মারধর করা হয়েছে। কোনো শিশু না খেতে চাইলে তাকে মারধর ছাড়াও প্যান্ট খুলে বালিকাদের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বাসায় বললে মেরে ফেলা বা অপহরণ করার হুমকি দেয়।

বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের চাপে কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ ইংরেজি শিক্ষক সরোয়ার হোসেনকে সোমবার সন্ধ্যায় চাকরিচ্যুত করেছে।

শহরের মৃধাপাড়া এলাকার অভিভাবক রাজিয়া সালমা বলেন, আমার ছেলে আবির হোসাইন জয়কে (১০) কোমল পানীয়র (কোক) সঙ্গে নেশা জাতীয় পাউডার মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। তিনি ওই শিক্ষকের বিচার চান।

ওই কোচিং সেন্টারের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আবির হোসাইন জয় বলে, সরোয়ার স্যার আমাদের ইউটিউবে পচা পচা ভিডিও দেখায়। জোর করে কোক নিয়ে যেতে বলে। কোক না নিয়ে গেলে বলে যে, লেংটা করে মেয়েদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখব। তারপর ডাস্টার দিয়ে আমাদের পিটায়। আমরা যদি এগুলা বলি তাহলে আমাদের বলে যে, তোদের মেরে ফেলব। মারধর করব।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নবুওয়াত আহম্মেদ বন্ধন (১০) বলে, স্যার আমাদের কোক স্পিড আনতে বলে, না নিয়ে গেলে ডাস্টার দিয়ে ঢিল মারে। কোক নিয়ে গেলে কোকের মধ্যে পাউডার মিশিয়ে আমাদের জোর করে খাওয়ায়। তারপর আমাদের ঘুম আসে। ঘুম আসলে চোখে পানি ছিটিয়ে দেয়। চোখ জ্বলে। শরীর খারাপ লাগে।

শাহরিয়া ওবায়েদ আল হামীম বলেন, সরোয়ার স্যার সবাইকে কোক টাইগার স্পিড নিয়ে যেতে বলে। না নিয়ে গেলে বলে যে, প্যান্ট খোল। আর তোরা কিভাবে এই কোচিংয়ে পড়িস তা দেখতেছি। আমাদের ভয় দেখায়। আর কোক স্পিড সব একসঙ্গে করে পাউডার মিশিয়ে খাওয়ায়।

কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান জামান কল্লোল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জামালপুর সদর থানার ওসি মো. সালেমুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়ানমিনকে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×