দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সংঘর্ষ

জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত ১

  দিনাজপুর প্রতিনিধি ১০ আগস্ট ২০১৯, ২০:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত ১

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আদালতের রায়ে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে গিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে লিটন মণ্ডল (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

সংঘর্ষে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত লিটন মণ্ডল নবাবগঞ্জ উপজেলার চককরিম গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। পরিবারের লোকজনের দাবি, পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে পুলিশ বলছে, তারা জনগণের জানমালের রক্ষার্থে ফাঁকা গুলি করেছে এবং পুলিশের গুলিতে নয়, দু'পক্ষের সংঘর্ষে লিটন মণ্ডল নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে চককরিম গ্রামের ৮ বিঘা জমির মালিকানা নিয়ে একই এলাকার রফিক উদ্দিন ও লিটন মণ্ডলের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

এই জমির মালিকানা নিয়ে দায়ের করা মামলায় সম্প্রতি রফিক উদ্দিনের পক্ষে রায় দেন আদালত।

শনিবার দুপুরে আদালতের রায়ে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে যায় পুলিশ। এ সময় রফিকউদ্দিন ও লিটন মন্ডলের পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

এ সময় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয় ১৫ জন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ ও ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে তাদের মধ্যে গুরুত্বর ৭ জনকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তাদের মধ্যে লিটন মন্ডলকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসক। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে নিহত লিটনের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাষ্টার মাসুদ রানা গুলিতে নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ময়নাতদন্তে বিষয়টি সুষ্পষ্ট বোঝা যাবে বলে তিনি জানান।

এই হাসপাতালে ভর্তি ৬ জনের মধ্যে গুলিবিদ্ধ রয়েছেন সাজু মন্ডল (২০), সাহানুর রহমান (৩৫) ও খোরশেদ আলম (২২)।

আর মারামারিতে আহত হয়েছেন বিলকিস (৪০), মনোয়ারা (৬০), মঞ্জুরুল ইসলাম (৩৫)।

নিহত লিটনের ভাই জোনাব আলী বলেন, পুলিশের ছোড়া গুলিতেই লিটন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলে তাকে প্রথমে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার রেজাউল করিম উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক লিটনকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বলেন, উপজেলার বড়আড়া গ্রামের রফিকউদ্দিনের সঙ্গে নিহত লিটনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে মামলা চলে আসছিল।

সম্প্রতিক আদালত থেকে বিরোধীয় জমির ডিগ্রী পান রফিক উদ্দিন। আদালতের সেই আদেশ বলে আদালতের লোকজন সঙ্গে নিয়ে রফিককে জমি বুঝিয়ে দিতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

একপর্যায়ে তারা দলবল নিয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং পুলিশের উপর হামলা করে। এসময় বিরোধে মানুষের জানমাল বাঁচাতে ও আত্মরক্ষার্থে ২০ রাউন্ড গুলি করে পুলিশ। ওসি জানান, পুলিশের গুলিতে নয়, প্রতিপক্ষের হামলায় লিটন নিহত হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×