উত্তরের দুর্ভোগের মূল কারণ সিরাজগঞ্জের নলকা সেতু

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

নলকা সেতু
নলকা সেতু

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জের নলকা সেতু দিয়ে গাড়ি ঠিকমতো টানতে না পারায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়।

এতে বঙ্গবন্ধু সেতুর নিরাপত্তার কারণে তিন দিনে ২২ দফায় ১১ ঘণ্টা টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। এ কারণেই টাঙ্গাইল অংশে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষ চরম দুর্ভোগ পড়ে। একইসঙ্গে যানজটে আটকা পড়ে তীব্র গরমে অতিষ্ট হয়ে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তীব্র যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে যাত্রীরা। তারা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা পুলিশ ও সাংবাদিকদেরও লাঞ্ছিত করেন।

পুলিশ, বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ, যানবাহনের চালক এবং যাত্রীরা জানায়, ৮ আগস্ট সকাল থেকেই এই মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। রাত ৮টার পর থেকে অতিরিক্ত চাপ বেড়ে যায়।

বঙ্গবন্ধু সেতু টোল প্লাজা সূত্র জানায়, ঈদে যানজট এড়াতে টোলপ্লাজায় টোল আদায়ের জন্য একটি অতিরিক্ত টোলবক্স চালু করা হয়। কিন্তু সিরাজগঞ্জের হাটিকমরুল মোড়, নলকা সেতু দিয়ে গাড়ি টানতে না পাড়ায় বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। আর এ চাপ কমাতে টোলপ্লাজার অতিরিক্তসহ মোট সাতটি টোল বুথ ১১ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

সুত্রগুলো জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন এবার টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সড়কের পুরো সুবিধা ভোগ করতে পেরেছে। তাই এলেঙ্গা পর্যন্ত যানবাহন দ্রুত চলে এসেছে।

এলেঙ্গার পর থেকে দুই লেনের মহাসড়ক। তাই সেখানে যানবাহনের গতি কমে গেছে। আবার সেতু পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জের দিকে নলকা সেতু এবং হাটিকমরুল মোড় থেকে যানজট শুরু হয়।

৯ আগস্ট সকাল থেকে এই যানজট বাড়তে বাড়তে সেতু পার হয়ে টাঙ্গাইলের দিকে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার লম্বা লাইন হয়ে যায়।

এদিকে সিরাজগঞ্জের দিকে গাড়ি এগুতে না পারায় সেতু কর্তৃপক্ষ ৮ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত ২২ দফায় ১১ ঘন্টায় মোট টোল আদায় বন্ধ রাখে।

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল পাভেল জানান, সিরাজগঞ্জের দিকে গাড়ি টানতে না পারায় যানজটের কারণে সেতুতে গাড়ি উঠাতে সম্ভব হয়নি। তবে সব সময়েই টোলপ্লাজা খোলা ছিল। এসময় মোটরসাইকেল পারাপার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চারলেন সড়ক নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এবং সিরাজগঞ্জের নলকা সেতুতেও চার লেনে গাড়ি পারাপার না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যা থেকেই যাবে।

এদিকে যানবাহন নড়াচড়া না করে একই স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। রোদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে।

মহাসড়কের পাশের বাড়িঘরে গিয়ে নারীদের প্রাকৃতিক কাজ করতে হয়। এ অবস্থায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে যাত্রীরা। টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের ঘারিন্দা, বিক্রমহাটি, কালিহাতী উপজেলার পৌলিসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেয়।

এর আগেও গত রোজার ঈদে যানজটের কারণে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ব্যাপারে কালিহাতী থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

যানজট প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, সিরাজগঞ্জের দিকে যানজটের সৃষ্টি হয়ে তা সেতু পার হয়ে টাঙ্গাইল পর্যন্ত চলে আসে। সেতুতে প্রায় ১১ ঘণ্টা টোল আদায় বন্ধ করা হয়। তাই এ জটের সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, টাঙ্গাইলে মহাসড়কে ৭৫০ জন পুলিশ মোতায়েন ছিল। টাঙ্গাইল অংশের কোনো ত্রুটির কারনে এ যানজট হয়নি। তবে পুলিশের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে ঈদের আগের দিনদুপুর ১২টার পর থেকেই যানচলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং ২টার মধ্যেই পুরো স্বাভাবিক হয় এবং ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরে যায়।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জের নলকা ও হটিকমরুল মোড়ে গাড়ি টানতে না পারায় বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ টোল আদায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এ কারণে টাঙ্গাইল অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, ঘরমুখো মানুষের স্বস্তিতে বাড়ি ফেরার জন্য মহাসড়কে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এডিসিরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছি। পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর ঈদের আগের দিন দুপুরের পর থেকে পুরোপুরি যানজট মুক্ত হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×