দিনাজপুরে চামড়া ফেলেই বাড়ি চলে গেলেন বিক্রেতারা

  দিনাজপুর প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

বাজারে চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চামড়া ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরে যান ব্যবসায়ীরা
বাজারে চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চামড়া ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরে যান ব্যবসায়ীরা

দেশের চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। চামড়ার উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে মৌসুমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।

বাজারে চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চামড়া ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরে যান অনেকেই।

বুধবার সকালে রামনগর বাজারের সেই ফেলে দেয়া চামড়া সরানোর কাজে হিমশিম খেতে হয় দিনাজপুর পৌরসভাকে।

দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি জুলফিকার আলী স্বপন বিক্রেতাদের চামড়া ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, পশু জবাইয়ের ৭ ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ লাগাতে হবে। কিন্তু অনেকেই ৭ ঘণ্টার পর চামড়া নিয়ে আসায় তা কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেকেই চামড়া ফেলে দিয়ে চলে গেছেন।

তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার দিনাজপুরের রামনগরে কোরবানিতে প্রতিবছর ৪০ হাজার পিস গরু এবং ৩০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়। কিন্তু এবার সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। যা অর্ধেকেরও কম।

কম সংখ্যক চামড়া ক্রয়ের ব্যাপারে তিনি সরকারের বেঁধে দেয়া দাম ও ব্যবসায়ীদের পুঁজি সংকটকে দায়ী করেন।

জুলফিকার আলী স্বপন বলেন, এক পিস চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ, মজুরি ও ভাড়া দিয়ে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে ২৫০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয় কেনা দাম। যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে চামড়া কিনে ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া সরবরাহ করার পর আসল দামই উঠবে না। এরপর গত কয়েক বছরের টাকাই দেয়নি ট্যানারি মালিকরা।

এদিকে গত সোমবার কোরবানির দিন বিকালে রামনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি পিস গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকায়। অথচ মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিপিস চামড়া ক্রয় করেছে ৩০০ টাকার উপরে। এতে আর্থিকভাবে চরমভাবে লোকসান গুনতে হয় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।

দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার এলাকার মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী তারেক হোসেন জানান, যে দামে চামড়া কেনা হয়েছে, তার অর্ধেক দামও বলছেন না রামনগরের চামড়া ব্যবসায়ীরা। লাভ তো দূরের কথা সারাদিন পরিশ্রম করে পুঁজি গায়েব হওয়ার উপক্রম তার।

ঈদের দিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত রামনগর চামড়ার বাজারে কিছুটা ভিড় থাকলেও মঙ্গলবার ও বুধবার গিয়ে দেখা যায় সুনশান অবস্থা। গোটা চামড়ার বাজার যেনো ফাঁকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর কোরবানির সময় রামনগর চামড়ার বাজার ৩ থেকে ৪ দিন জমজমাট থাকে। কিন্তু এবার কোরবানির দিন একটু ভিড় হলেও পরের দিন থেকে ফাঁকা।

ঘটনাপ্রবাহ : চামড়া ব্যবসায় সিন্ডিকেট

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×