রিফাত হত্যা: মিন্নিসহ ১৪ আসামি আদালতে

  বরগুনা (দক্ষিণ) ও বরগুনা প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়
আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। ফাইল ছবি

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ১৫ জন আসামির মধ্য ১৪ জনকে কড়া আদালতে হাজির করে হয়। অপর আসামি রাতুল নাবালক বিধায় তাকে যশোর শিশু নিবাস থেকে আনা হয়নি।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বরগুনা জেলা কারাগার থেকে দুটি পুলিশ পিকআপ ভ্যানে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে তাদের হাজির করা হয়।

এ সময় সাক্ষী থেকে আসামি গ্রেফতারকৃত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আদালতে বলেন, মিন্নির জামিন ৩০ জুলাই বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নামঞ্জুর হয়। পরে হাইকোর্টে মিন্নির পক্ষের জামিনের আবেদন ৮ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের পক্ষে কোনো জামিনের আবেদন ছিল না।

পরে আদালতের কার্যক্রম শেষে করে আসামিদেরকে আবার বরগুনা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আগামী ২২ আগস্ট পুলিশ প্রতিবেদন ও বাকি আসামিদের হাজির করার জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। ওই দিন আবার বরগুনা কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে আনা হবে।

আদালত কার্যক্রম শেষে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী যুগান্তরকে বলেন, ‘মামলার দিন ধার্য থাকায় রিফাত হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার ১৫ আসামির মধ্যে ১৪ জনকে সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ মামলায় রাতুল নামের এক আসামি কিশোর হওয়ায় সে যশোরের শিশু নিবাসে রয়েছে। তাই তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম মজিবুল হক কিসলু বলেন, এই মামলায় এখন পর্যন্ত চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়নি। তাছাড়া এজাহারভুক্ত চারজন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। আদালত আগামী ২২ আগস্ট পুলিশ প্রতিবেদন ও আসামিদের হাজিরের জন্য দিন ধার্য করেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত ১৫ জন আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ূন কবির বুধবার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, আমরা অল্প সময়ের মধ্য চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে পারবো। তবে আগামী ২২ তারিখ চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে পারবো কিনা তা জানি না।

তিনি বলেন, মামলায় সংক্রান্ত ২০টি আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। তার মধ্য অনেকগুলো আলামত পরীক্ষা শেষে আমাদের কাছে এসেছে। এখনও কিছু বাকি আছে। সেগুলো পেলেই চার্জশিট দিতে পারবো।

এখনও এজাহারভুক্ত ৪ জন আসামিকে করতে না পারার কারণ জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আসামিদের গ্রেফতার করতে। বিভিন্ন জায়গায় সোর্স নিয়োগ করেছি। চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

আসামিরা দেশ ত্যাগ করেছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিরা দেশ ত্যাগ করতে পারেনি। সম্ভবত আসামিরা দেশের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে রয়েছে।

পুলিশ আশাবাদী আসামিরা ধরা পড়বেই।

মামলার বাদী আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, আমি হতাশ। দীর্ঘ দেড় মাসেও এজাহারভুক্ত ৪ জন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২ জুলাই নিহত হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত সাত আসামি এবং হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরও আটজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত ১৫ জনের সবাই রিফাত হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলার বাদী দুলাল শরীফ সন্দেহ করে মিন্নি তার ছেলে রিফাত হত্যার সঙ্গে জড়িত। দুলাল শরীফ মিন্নিকে গ্রেফতার করার জন্য সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

পুলিশ যাচাই বাচাই করে মিন্নিকে ১৬ জুলাই পুলিশ তার বাড়ি থেকে তুলে এনে ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার করে। ১৭ জুলাই পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়। ১৯ জুলাই মিন্নি ম্যাজিষ্ট্রট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

২২ জুলাই মিন্নির পক্ষে বরগুনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন করলে নামঞ্জুর হয়। ৩০ জুলাই বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিন্নির পক্ষে জামিনের আবেদন করলে তাও নামঞ্জুর হয়। ৮ আগস্ট মিন্নির পক্ষে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন শুনানির সময় তার আইনজীবী জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×