সেই সীমার মাকে সেলাই মেশিন-ভাইকে সাইকেল দিলেন ইউএনও

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

মেধাবী ছাত্রী সীমার মাকে সেলাই মেশিন ও ভাইকে সাইকেল উপহার দিলেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার

কথা রাখলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার। উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের সেই মেধাবী ছাত্রী সীমার মাকে সেলাই মেশিন ও ভাইকে সাইকেল উপহার দিলেন তিনি।

রোববার বিকাল ৫টার দিকে তার অফিসে ডেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমার মা কোহিনূর খাতুনকে স্বাবলম্বী করে তুলতে একটি সেলাই মেশিন এবং ভাই কাওসার আলীর হাতে একটি বাইসাইকেল তুলে দেন ইউএনও।

এ সময় ইউএনওর দেয়া উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অসহায় পরিবারের সবাই।

এর আগে গত শুক্রবার সীমাদের বাড়িতে নিজে বাজার করে দুপুরের খাবার খান ইউএনও সরকার অসীম কুমার।

সেদিন এই উপহারগুলো তাদের দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সরকার অসীম কুমার।

উল্লেখ্য, দরিদ্রকে জয় করে উপজেলার মথুরাপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের দিনমজুর আবদুল ওয়াহাব প্রামাণিক ও গৃহিণী কোহিনূর খাতুনের মেয়ে এবার চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন। তার বড় বোন শিখাও মানবিক বিভাগ থেকে একই সঙ্গে পাস করেন।

ভালো ফল করেও যখন তাদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল ঠিক সে সময় যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে ‘ভালো ফল করেও সীমার চোখে অশ্রু’এমন শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে সংবাদটি দেখে ১ আগস্ট সীমাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের দুই বোনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার। 

ওই সময় ইউএনওর কাছে সীমার বাবা-মা দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য আবদার করলে গত শুক্রবার নিজে বাজার করে তাদের বাড়িতে গিয়ে দুপুরের খাবার খান। এ সময় ওই পরিবারের ভাঙাচোরা বসতঘর দেখে ঘর মেরামত, সীমার মা কোহিনূর খাতুনকে সেলাই মেশিন এবং ছোট ভাই কাওসারকে একটি বাইসাইকেল উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইউএনও।

সীমা পড়াশোনা শেষ করে পুলিশ অফিসার এবং শিখা স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের অভাব দূর করতে চায়। দুই বোনের স্বপ্ন পূরণে ইউএনওর এমন মানবিকতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পরিবারটি।