ভবদহের অভিশাপ জলাবদ্ধতা

  তারিম আহমেদ ইমন, অভয়নগর (যশোর) ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১২:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

ভবদহের অভিশাপ জলাবদ্ধতা
ভবদহের অভিশাপ জলাবদ্ধতা। ছবি-যুগান্তর

যশোরের অভয়নগর উপজেলাসহ ভবদহ অঞ্চলের ১০ লাখ মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভবদহের ‘২১ ভেন্ট স্লুইসগেট’।

এ স্লুইসগেটের ২১ কপাটের মধ্যে ১৮টি পলির নিচে চাপা পড়ে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। যার ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

অবিলম্বে বন্ধ হওয়া এসব কপাট খোলার পদক্ষেপ না নিলে ও নদী খননের কাজ শুরু না করলে চলতি বর্ষা মৌসুমে ভবদহ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়নে ভবদহের ভবানীপুরে অবস্থিত সবচেয়ে বড় ‘২১ ভেন্ট স্লুইসগেটের’ ১৮টি কপাটই পলির নিচে চাপা পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে।

গেটের দু’পাশে জমেছে বিপুল পরিমাণ পলিমাটি। যার ফলে এ স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। গেটসংলগ্ন শ্রীনদী, টেকা ও মুক্তেশ্বরী এ তিনটি নদীর অবস্থা আরও ভয়াবহ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬০ সালের দিকে যশোর সদর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলা এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী ভবদহ নামক এ স্থানে পানি নিষ্কাশনের জন্য শ্রীনদীর ওপর নির্মাণ করা হয় ২১ ভেন্টের স্লুইসগেট।

পরবর্তী সময় প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৮ লাখ মানুষের মরণফাঁদে পরিণত হয় এ গেট। স্লুইসগেটের ২১টির কপাট দিয়ে শ্রীনদী, টেকা ও মুক্তেশ্বরী নদীসহ বিল কেদারিয়া, বিল বকর ও বিল আড়পাড়াসহ যশোর ও খুলনা এলাকার মোট ২৭টি বিলের পানি নিষ্কাশন হওয়ার কথা।

১৯৯৪ সালে বর্ষা মৌসুমে বিলের তীরবর্তী আশপাশের শত শত গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ওই সময় জলাবদ্ধ এলাকার পানিবন্দি মানুষ আন্দোলন শুরু করলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ভবদহের পানি নিষ্কাশন প্রকল্প (কেজিডিআরপি) গ্রহণ করা হয়।

এতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২৫৭ কোটি টাকা। সমুদয় অর্থ ব্যয় হওয়ার পরও এখানকার জলাবদ্ধতার নিরসন হয়নি। জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০০৭ সালে ৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ও ২০১০ সালে ৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। এছাড়া দফায় দফায় টিআরএম প্রকল্প চালু করে ছোট ছোট প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি ঘটেনি। স্থায়ী সমাধানের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ সমস্যাকে স্থায়ী রূপ দিয়ে এটিকে লুটপাটের জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পায়রা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ আলম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় ঘের মালিকদের স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ড আমাদের ওপর অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে এ জলাবদ্ধতা। তাছাড়া সম্প্রতি মশিয়াহাটি-আমডাঙ্গা খালখনন কাজ খাল কেটে কুমির আনার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। খালটির ডহরমশিয়াহাটি ব্রিজ থেকে সুন্দলী ব্রিজ পর্যন্ত খনন হলেও খালের দু’প্রান্তে বিশেষ করে সুন্দলী থেকে আমডাঙ্গা পর্যন্ত খনন না হওয়ায় মাঝখানে পানি জমা হয়েছে। এবার বর্ষার চাপ বেশি হলে ঘরের মাঝ দিয়ে পানি প্রবাহিত হবে বলেও তিনি আশঙ্কা করছেন।

তিনি অবিলম্বে স্লুইসগেটের কপাট সংস্কার ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নদীগুলোর খনন কাজ সম্পন্ন করে তার নাব্য ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলন কমিটি ও অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এনামুল হক বাবুল বলেন, সব কপাট মেরামত না হলে ভবদহ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এছাড়া আশপাশের সব নদী ও আমডাঙ্গা খালখনন করে উজানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং বিল কপালিয়াসহ খাল-বিলে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) প্রকল্প চালু করতে হবে।

অভয়নগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর বলেন, যশোরের দুঃখ হিসেবে খ্যাত ভবদহের এ জলাবদ্ধতা। যে কোনো মূল্যে এ জলাবদ্ধতা দূর করতে হবে।

বিষয়টি সম্পর্কে অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম জানান, আমি যতদূর জানি, ভবদহের এ ২১ ভেন্টের স্লুইসগেটটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। বিষয়টি সম্পর্কে তারা বেশি ভালো বলতে পারবেন।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, আমরা ভবদহ অঞ্চলের সবকটি নদী ও খালখননের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। টিআরএম প্রকল্প বাদ দিলে পানি নিষ্কাশন হবে না তা ঠিক নয়। আমডাঙ্গা খালখনন করে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব। তাছাড়া টেকা ও হরিহর নদী খনন করলেও পানি নিষ্কাশিত হবে।

তিনি আরও বলেন, অতি দ্রুত ২১ ভেন্ট স্লুইসগেটের দু’পাশে জমে থাকা পলি অপসারণ করে গেটটিকে সচল করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×