সেই টুনির বাড়িতে মাশরাফি, ভক্তদের ভিড়

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  শেরপুর প্রতিনিধি

কাজের মেয়ে টুনির গ্রামের বাড়িতে মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেটার হিসেবে মাশরাফি বিন মর্তুজা যতটা প্রশংসিত তার চেয়েও বেশি আলোচিত তার সুন্দর আচরণ নিয়ে। শুক্রবার হঠাৎ করেই কাজের মেয়ে টুনির গ্রামের বাড়ি শেরপুর নালিতাবাড়ীতে স্বপরিবারে উপস্থিত হন জাতীয় দলের অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি।  

মাশরাফি ঢাকা থেকে যোগানিয়া কাচারি মসজিদ সংলগ্ন আক্কাছ আলীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন, এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই ভক্ত-সমর্থক এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষ জাতীয় দলের অধিনায়ককে একনজর দেখতে ভিড় জমান। তারা মাশরাফির সঙ্গে সেলফি তোলা এবং অটোগ্রাফ নিতে ব্যস্ত  হয়ে পড়েন।

মাশরাফির আগমনে এলাকায় অন্যরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ক্রিকেট ভক্ত ও উৎসুক মানুষের  ভিড় সামলিয়ে আড়াই ঘণ্টা অবস্থানের পর শেরপুর ত্যাগ করেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল এ অধিনায়ক। 
মাশরাফিকে দেখতে ছুটে যান নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুকছেদুর রহমান লেবু।

তিনি বলেন, কাজের মেয়ে টুনি এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মীকে আক্কাস আলীর মুখে হাসি ফোটাতে মাশরাফি পরিবারসহ এসেছেন। আমাদের সমাজে মাশরাফির মতো এমন দরদী মানুষ খুব কমই আছে। 
বাসার নিরাপত্তা কর্মীর কাজ থেকে টুনির বাবা আক্কাছ আলী বিদায় নিলেও তার পরিবারের প্রতি মাশরাফির রয়েছে হৃদয়ের টান ও মমতা। মাশরাফি আক্কাছ আলীকে চিকিৎসার সময় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তাদের মাথাগোঁজার জন্য গ্রামের বাড়িতে একটি সেমিপাকা ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। সর্বোপরি টুনির ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক। 

নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আমিন সিফাত জানান, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে চাকরির সময় মাশরাফির সঙ্গে পরিচয় হয় আক্কাছ আলীর। সেই পরিচয় সূত্রে প্রায় ৮ বছর আগে হতদরিদ্র আক্কাছ আলীর মেয়ে টুনিকে তার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে দেন মাশরাফি। 

অসুস্থতার কারণে আক্কাছ আলী সেখান থেকে বিদায় নিলেও তার মেয়ে টুনি মাশরাফির বাসাতেই রয়ে গেছে। দীর্ঘ ৮ বছরে মাশরাফির স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে টুনির গড়ে উঠেছে নিবিড় সম্পর্ক। তারা এখন টুনিকে তাদেরই একজন মনে করেন!