আ’লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে নিহতের জের

মোল্লাহাটে হামলার ভয়ে অর্ধশত পরিবার এলাকাছাড়া

  বাগেরহাট প্রতিনিধি ২৪ আগস্ট ২০১৯, ২২:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

গত এক সপ্তাহ ধরে ‘দাড়িয়ালা ও  ছোট কাচনা’ গ্রামে দফায় দফায়  হামলার পর প্রতিপক্ষের অর্ধশত বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে
‘দাড়িয়ালা ও ছোট কাচনা’ গ্রামে প্রতিপক্ষের অর্ধশত বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ছবি: যুগান্তর

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একজন নিহতের ঘটনায় এলাকায় ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে ‘দাড়িয়ালা ও ছোট কাচনা’ গ্রামে দফায় দফায় হামলার পর প্রতিপক্ষের অর্ধশত বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মামলা ও হামলার ভয়ে শুধু পুরুষ নয় নারীরাও গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

শনিবারও এক পক্ষ অপর পক্ষকে দোষারোপ করে এলাকায় মানববন্ধন করেছেন। এ অবস্থায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

মোল্লাহাট থানা পুলিশের দাবি পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার ‘দাড়িয়ালা ও ছোট কাচনা’ গ্রামে ‘মোল্লা ও হালদার’ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধের জেরে গত ৩ আগস্ট বিকালে দাড়িয়ালা বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।পরে মোল্লা গ্রুপের প্রধান মোল্লা সবুজ মেম্বার ও হালদার গ্রুপের প্রধান রজু হালদার গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রসহ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ উভয় গ্রুপের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। আহতদের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় গত ৮ আগস্ট মোল্লা গ্রুপের সদস্য দেলোয়ার হোসেন মারা যান।

এই মৃত্যুর ঘটনার পর ১৫ আগস্ট থেকে মোল্লা গ্রুপের সদস্যরা মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে হালদার গ্রুপের সদস্যদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে।

গত এক সপ্তাহ ধরে ‘দাড়িয়ালা ও ছোট কাচনা’ গ্রামে হালদার গ্রুপের অর্ধশত বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এ সব বাড়ির কয়েক লাখ টাকার মালামাল ও পশু লুটসহ শিক্ষার্থীদের বই-খাতাও তছনছ করে।এমনকি পরিবারের নারী সদস্যদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা ও শিশুদেরও মারপিট করার অভিযোগ করে এক পক্ষ অপর পক্ষকে দায়ী করছে।

আবারও একই ধরনের হামলার ভয়ে দুই গ্রামের শিশু ও নারীদের মাঝে একপ্রকার ভিতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এ দিকে শনিবার আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মোল্লা সবুজ মেম্বার গ্রুপের লোকজন ঘটনার জন্য অপর আওয়ামী লীগ কর্মী রজু হালদারকে দায়ী করে এলাকায় মানববন্ধন করেছে।

হালদার গ্রুপের রজুর দাবি, তাদের গ্রুপের অসংখ্য লোকজনের বাড়িঘর কুপিয়ে ও হ্যামার দিয়ে বসবাসের অনুপযোগী করে দেয়া হয়েছে। বাড়ির ফলদ বৃক্ষ কেটে ফেলা, বিদ্যুতের মিটার ভেঙ্গে ফেলা, সরকারি গভীর নলকূপের মাথা খুলে নেয়া হয়েছে। ভাংচুরের হাত থেকে রেহাই পায়নি টয়লেট ও রান্নাঘরও । হত্যা মামলা এবং হামলার পর নারী-পুরুষশূন্য এ সব বাড়িঘর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ সব বাড়িতে একমুঠো ভাত খাবারও পরিবেশ নেই বলে তিনি জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ নাজমা বেগম জানান, রাতের বেলায় প্রতিপক্ষরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। তাকে সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে তার ঘরে থাকা সবকিছু লুটে নিয়েছে। বাচ্চাদের একমুঠো ভাত খাওয়ানো ব্যবস্থাও নেই। বাড়ি ছেড়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের।

শুধু নাজমা বেগম নয়, ওই এলাকার অনেক পরিবারের ওপর একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এ সব পবিবার গুলি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্সি তানজিলুর রহমান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে আহত একজন নিহতের ঘটনার এ মামলা হয়। কিন্তু একটি পক্ষ লুটপাট ও ভাংচুর শুরু করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবীর জানান, আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় একটি পক্ষ লুটপাট ভাংচুর শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×