‘কালাবাবু’র ক্রেতা এবারও মেলেনি!

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

৪০ মণ ওজনের গরু ‘কালাবাবু’

অনেক আশা করে টাঙ্গাইলের আলোচিত ৪০ মণ ওজনের গরু ‘কালাবাবু’কে ঢাকার কোরবানির হাটে নিয়ে গিয়েছিলন মালিক মেহেদী হাসান। কিন্তু সেখানে ‘কালাবাবু’র ক্রেতা মেলেনি।

তাই আবার ‘কালাবাবু’কে বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছেন। এর আগের বছরও দাম কম হওয়ায় কালাবাবুকে বিক্রি না করে ফিরিয়ে আনা হয়। এ নিয়ে বিপাকে পরেছেন গরুটির মালিক মেহেদী হাসান।

গরুর মালিক মেহেদী হাসান জানান, ‘কালাবাবু’কে নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। গত বছরও ঢাকার একটি হাটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ৯ লাখ টাকা দাম উঠেছিল। আরও দামের আশায় গতবার বিক্রি করেননি। এক বছর লালন-পালনের পর ‘কালাবাবু’র ওজন এবার তিন মণ বেড়ে ৪০ মণ হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা পাওয়া যায়নি। হাটে নেয়ার আগে বাড়িতে পাইকাররা এসে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছিলেন।

এই ‘কালাবাবু’ লম্বায় ৮ ফুট। বয়স সাড়ে ৬ বছর। এটি দেশীয় জাতের ষাঁড় গরু। তাকে লালন-পালন করেছেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা উত্তরপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান। এবার কোরবানির ঈদে ‘কালাবাবু’ই টাঙ্গাইলের সবচেয়ে বড় গরু ছিল।

প্রায় সাড়ে ৬ বছর আগে মেহেদীর খামারেই জন্ম হয় ‘কালাবাবু’র। এরপর থেকে তাকে কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে লালন-পালন করা হচ্ছে। গত কোরবানিতে এই গরুটির ওজন ছিল প্রায় ৩৭ মণ। সেই সময় ‘কালাবাবু’কে ঢাকার একটি হাটে উঠানো হয়।

সেখানে ক্রেতারা এই গরুটির দাম ৯ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মেহেদী বেশি দামের আশায় গরুটি ওই সময় বিক্রি করেননি। এক বছর লালন-পালনে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়।

এবার ঈদের পাঁচদিন আগে ‘কালাবাবু’কে ঢাকার মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কোরবানির হাটে নিয়ে যান মেহেদী হাসান।

তিনি জানান, হাটে নেয়ার পর থেকে সবাই শুধু ‘কালাবাবু’কে দেখতে আসেন। অনেক মানুষ জড়ো হয়। তিনি ১৫ লাখ টাকা দাম চান। আরও কম হলেও বিক্রি করে ফেলতেন। কিন্তু কেউ তেমন দাম বলেননি।

মেহেদী হাসান জানান, ষাঁড়টি দেখতে কালো বলে তার নাম ‘কালাবাবু’ রাখা হয়। গরুটি খুবই শান্ত প্রকৃতির। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের পরামর্শক্রমে কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করেছেন। এবারও বিক্রি করতে না পারায় তিনি হতাশ।