দুই মেম্বারের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২২:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও হোসেনপুর প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় বর্তমান ও সাবেক মেম্বারের পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু'পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ গেল সাইদুল সরকারের (৩৮)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন।

রোববার বেলা ১১টার দিকে হোসেনপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের নান্দাইলের খারুয়া ইউনিয়নের দেওয়ানগঞ্জ বাজারে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইদুল হোসেনপুর উপজেলার মহেশকুড়া গ্রামের মৃত আজহার সরকারের ছেলে।

এ ঘটনায় হোসেনপুর থানা পুলিশ তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। অপরদিকে নান্দাইল থানা পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খারুয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মুক্ত মিয়া ও বর্তমান মেম্বার রিপুল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে রোববার বেলা ১১টার দিকে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে সাইদুল সরকারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ ব্যক্তি আহত হয়।

আহতদের উদ্ধার করে হোসেনপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহতরা হলেন- পাবেল (২৫), ডালিম (৪০), নাঈম (১৫), হিমেল (২০), জুনায়েদ (২৬), জলিল (৩০), সুলতু (২৮) ও মঞ্জু (৩২)। তাদের কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, সপ্তাহখানেক আগে চা খাওয়া নিয়ে দুই মেম্বারের লোকজনের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রিপুল মেম্বার নান্দাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিল।

রিপুল মেম্বার অভিযোগ করে বলেন, সপ্তাহখানেক আগে মুক্তু মিয়ার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে রাব্বি নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করি। এরপর থেকেই প্রতিপক্ষের লোকজন নানাভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে জানতে মুক্তু মেম্বারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

নান্দাইল থানার ওসি মুনসুর আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হোসেনপুর থানার ওসি শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।