ফেসবুকে পরিচয়ের পর থেকেই যত অঘটন!

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২৩:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুক

ঘটনার শুরু ৫ বছর আগে। ফেসবুকে তরুণীর সঙ্গে লিমনের পরিচয়। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেম।

একপর্যায়ে সংসার বাঁধার আশায় প্রেমের টানে ঘর ছাড়ে তরুণী। কিন্তু বিষয়টি জানতে পারে লিমন পরিবার। তাই তরুণীকে একটি হোটেলে রেখে লিমন উধাও হয়।

অসহায় অবস্থায় প্রেমিক লিমনের বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অনশন করে ওই তরুণী। কিন্তু লিমনের পরিবার তাকে মানতে নারাজ। সে কারণে তাকে সরাতে তার বাবা-মাকে খবর দেয়া হয়।

বাবা-মা এলেও তরুণী এলাকা না ছাড়ায় তাদের সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখে লিমনের পারিবার। বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরহালিম গ্রাম থেকে তরুণী ও তার বাবা-মাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে।

তরুণীর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমরাগাছিয়া ইউনিয়নে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে তারা ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ডগাই এলাকায় বসবাস করছেন।

আর লিমনের বাড়ি রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা গ্রামে এবং সে ওই গ্রামের বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে। তারা দু'জনই অনার্স পড়ুয়া।

এদিকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার আগে পুরো ঘটনার বর্ণনা এ প্রতিবেদককে ফোনে জানান ওই তরুণী।

তরুণীর দাবি, ৫ বছর ধরে লিমনের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয়। শারীরিক সম্পর্কে গড়ায় দেড় বছর। বিভিন্ন সময় তারা ঢাকায় দেখা করত।

সর্বশেষ ১৮ আগস্ট ঘর থেকে পালিয়ে পটুয়াখালী ও বরিশাল লিমনের সঙ্গে আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিল তরুণী। বিষয়টি লিমনের পরিবার জানতে পারে। আর তাই তরুণীকে বরিশাল রেখে লিমন পালিয়ে যায়।

কোনো উপায় না পেয়ে লিমনের বাড়িতে চলে আসে তরুণী। সেখান থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিন ও লিমনের মামা বাহাদুর শিকদার এসে তরুণীকে নিয়ে যায়। পরে তরুণীর বাবা-মাকে খবর দেন। বাবা-মা এলে তরুণীকেসহ তাদের আটকে রাখে। তাই অসহায় তরুণী ফোনে সাংবাদিকদের সহযোহিতা চান।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে বিয়ের দাবিতে লিমনের বাড়িতে অবস্থান নেয় অসহায় ওই মেয়ে। বিষয়টি লিমনের পরিবার স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিনকে জানান। পরে নুরুল আমিন এসে মেয়েটিকে নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মাসুম হাওলাদারের চরহালিম গ্রামের বাড়িতে রাখেন।

পরে ওই ইউপি সদস্য মেয়ের পরিবারকে খবর দিলে শনিবার সকাল ১০টায় বাবা-মা আসেন। এরপর তরুণীকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকা পাঠানোর জন্য আপোষ-মীমাংসার অনেক চেষ্টা করলেও কোনো সুরহা হয়নি।

তরুণী কোনোমতেই এলাকা ছাড়তে রাজি হয়নি। এ কারণে তরুণী ও তার বাবা-মাকে অবরুদ্ধ করে রাখে লিমনের পরিবার। বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার রাত ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ গিয়ে চরহালিম গ্রাম থেকে ওই মেয়ে ও তার বাবা-মাকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ছেলে পলাতক রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সামাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

তরুণীর বাবা-মা বলেন, মেয়ে ঘর থেকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে বের হয়। পরে মেয়ের সন্ধান পেয়ে ছুঁটে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন তারা। যদিও লিমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক আগে থেকেই তরুণীর মা জানতো।

পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন রোববার সকালে তরুণী ফোনে বলেন, আমরা পটুয়াখালী যাচ্ছি। মামলা দিতে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি আলী আহম্মেদ বলেন, ঘটনাস্থল পটুয়াখালী। তাই সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ হেফাজতে রোববার সকালে ওই মেয়ে ও তার বাবা-মাকে পটুয়াখালী সদর থানায় পাঠানো হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×