সোনাগাজীর চার লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় মাত্র ৩ চিকিৎসক

  জাবেদ হোসাইন মামুন সোনাগাজী, (ফেনী) ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: যুগান্তর
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: যুগান্তর

ফেনীর উপকূলীয় সর্ববৃহৎ সোনাগাজী উপজেলার পৌনে চার লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক-কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি যেন নিজেই রোগাক্রান্ত। ফলে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দারা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে-কিন্তু মিলছে না এর কোনো প্রতিকার।

সূত্র জানায়, সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের মোট একুশটি পদ থাকলেও বর্তমানে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। অফিস সহকারীর ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পাঁচটি পদের মধ্যে আছেন মাত্র একজন। সুইপারদের ৫টি পদের মধ্যে ৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

টেকনিশিয়ান থাকলেও দীর্ঘদিন এক্স-রে মেশিনটি বিকল। গত প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় জেনারেটরটি নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া আসবাবপত্র ও বিভিন্ন বিভাগে যন্ত্রপাতির সংকটও রয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালে যে তিনজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন তাদের মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তাকেও দাফতরিক কাজের পাশাপাশি রোগী দেখতে হয়। দুইজন মেডিকেল অফিসার (চিকিৎসক) দিয়ে চরম সংকটে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার বলা হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০/৭৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে গড়ে দূর-দূরান্ত থেকে চারশ' থেকে সাড়ে চারশ' রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ও বিভাগীয় চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে সেবা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। অথবা জেলা শহরে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিতে হয়।

উপজেলার বগাদানা ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মেজবাহ উদ্দিন নামে একজন রোগী জানান, তিনি দাঁতের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে দাঁতের চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

সুজাপুর গ্রামের হাড়ভাঙ্গা রোগী পেয়ারা বেগম চিকিৎসাসেবার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে জানতে পারেন, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট। সোনাগাজী উপজেলা সদরে ভালো কোনো এক্স-রে মেশিন না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে জেলা শহরের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়।

হাসপাতালের সংকটের সত্যতা স্বীকার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল আলম যুগান্তরকে বলেন, চিকিৎসক সংকট এবং এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চরম সংকটের মধ্যেও রোগীদের সেবা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমি একাধিকবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো ফল পাইনি। তবে তিনি নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হলে পর্যাপ্ত চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×