ইমামের ঘরে একসঙ্গে ৩ শিশুর মৃত্যুর কারণ জানালেন পুলিশ সুপার

  যুগান্তর ডেস্ক ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

ইমামের ঘরে একসঙ্গে ৩ শিশুর মৃত্যুর কারণ জানালো পুলিশ সুপার

চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষে তার নিজের ছেলেসহ তিন শিশু-কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ মৃত্যুর রহস্য ভেদের চেষ্টা করছে। এছাড়াও জেলা পুলিশের সিআইডি, গোয়েন্দা সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করছে।

ইতিমধ্যে এ তিন মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর দুটি কারণ খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ইমামের কক্ষটিতে রাখা ব্যাটারির এসিড তাপে বিষাক্ত হয়ে গ্যাসে রূপান্তরিত হয়েছিল। অথবা ওই তিনজন ব্যাটারির এসিড পান করেছিল।

তবে এ দুটির কোনোটিই সুষ্পষ্ট বা নিশ্চিত কারণ নয় বলে জানিয়েছেন তারা। এখন পর্যন্ত তদন্তের রিপোর্ট থেকে তাদের এ ধারণা হয়েছে বলে জানান তারা।

এমন ধারণা করার পেছনে যেসব ব্যাখ্যা রয়েছে তা জানান চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির।

শনিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির তিনি বলেন, আকারে খুবই ছোট একটি কক্ষে ইমাম ও তার ছেলে থাকতেন। আর সেই কক্ষেই মসজিদের আইপিএস’র ব্যাটারির এসিড রক্ষিত ছিল। ফলে কক্ষটির বাতাশ কেমিকেলের তীব্র গন্ধে বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি, তিন শিশু-কিশোর ওই কক্ষে দরজা বন্ধ অবস্থায় অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।

বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্তের জন্য শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে কেমিকেল এক্সপার্ট ও ফরেনসিক এক্সপার্টের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে বলে জানান তিনি।

ওই দুটো দলে ছিলেন ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ের ক্রাইম টিম অ্যানালাইসিস বিভাগের পরিদর্শক মর্তুজা কবির ও রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ পিন্টু পোদ্দার।

ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে মতলব দক্ষিণ থানার পুলিশকে ওই তিনজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে মৃত তিন শিশু-কিশোরের ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

প্রসঙ্গত চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার পূর্ব কলাদী এলাকায় শুক্রবার (৩০ আগস্ট) জুমার নামাজের পর ‍স্থানীয় জামে মসজিদের ইমামের কক্ষে তার নিজের ছেলেসহ তিন শিশু-কিশোরের লাশ পাওয়া যায়।

মারা যাওয়া তিনজন একই মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা হল- ইমাম জামাল উদ্দিনের শিশুপুত্র আবদুল্লাহ আল নোমান (৫), মতলব দক্ষিণ উপজেলার নলুয়া এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে রিফাত হোসেন (১২) ও একই উপজেলার কাশিমপুর এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম খলিল (১৫)। তিন শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ওই মসজিদের ইমাম মাওলানা জামাল উদ্দিন তার ছেলে আবদুল্লাহ আল নোমানকে কক্ষে রেখে নামাজ পড়াতে যান। এরপর ওই কক্ষে আসে রিফাত ও ইব্রাহিম। জামাল উদ্দিন নামাজ শেষে মসজিদ সংলগ্ন নিজের রুমে ঢুকতে গিয়ে দেখতে পান দরজা ভেতর থেকে আটকানো।

অনেক ডাকাডাকির পর সাড়া না মিললে মুসল্লি শাহীন সরকার, সাইফুল, সুমন মোস্তফা ও ইমাম জামাল উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা ৩ শিশু-কিশোরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নোমান ও রিফাতের মৃত্যু ঘটনাস্থলেই হয়েছে। ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে মতলব হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকেও মৃত ঘোষণা করে।

ইমাম জামাল উদ্দিন বলেন, জুমার নামাজের আগে বেলা পৌনে ১টায় আমি বয়ান ও খুতবার জন্য নিজের কক্ষ থেকে বেরিয়ে মিমবরের দিকে যাই। নামাজ পড়ানো শেষে মসজিদে মিলাদ পড়িয়ে নিজের রুমের দরজায় এসে দেখি ভেতর থেকে আটকানো। অনেক ধাক্কাধাক্কি করি। পরে মুসল্লিদের সহায়তায় দরজা ভেঙে দেখি আমার ছেলেসহ অপর দুই শিশু-কিশোর অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।

একটি সূত্র দাবি করেছে, ওই তিন শিশু-কিশোরও নামাজ পড়েছে এবং মিলাদের জিলাপি খেয়েছে। এরপর তার কক্ষে প্রবেশ করে। কিন্তু কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা কেউ জানাতে পারেনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×