সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেননি মিন্নি

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  বরগুনা প্রতিনিধি

মুক্তির পর জেল গেটে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ছবি: বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। গ্রেফতারের ৪৮ দিন পর মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

কারাগারের গেট থেকে বের হওয়ার পর মিন্নিকে ঘিরে ধরেন তার বাবা-চাচা, স্বজনরা ছাড়াও আইনজীবী ও সাংবাদিকরা। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

জেল গেট থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মিন্নি তার নিজ বাড়ি নয়াকাটা পুলিশ লাইন মাইঠা গ্রামে যান। 

এ সময় সাংবাদিকরা মিন্নিকে প্রশ্ন করেছে জেলখানায় কেমন ছিলেন। মিন্নি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দ্রুত তার বাসায় ঢুকে যান। 

চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট এম জাহিদ হাসানের আদালতে মিন্নির আইনজীবী জামানতনামা দাখিল করার জন্য আবেদন করেন। হাইকোর্টের আদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিকাল সাড়ে ৩টায় ওই ম্যাজিস্ট্রেট বরগুনা কারাগারে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির রিলিজ আদেশ পাঠিয়ে দেন।

বরগুনার জেলার মো. হুমায়ূন কবির মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, বরগুনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের রিলিজ আদেশ পেয়ে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে বিকাল সাড়ে ৪টায় জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

মিন্নি জেল থেকে বের হওয়ার সময় জেল গেটে উপস্থিত ছিলেন মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম, মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর, চাচা মো. দুলাল ও আবু সালেহসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পর দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলেকে হত্যায় পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।