জেল গেটে মিন্নিকে শর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেন আইনজীবী

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  বরগুনা (দ.) প্রতিনিধি

মুক্তির পর মিন্নির সঙ্গে দেখা করেন তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী

কারাগার থেকে মুক্তির পর আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে দেখা করেছেন তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। এ সময় তিনি মিন্নিকে আদালতের শর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

মিন্নি জেল থেকে বের হওয়ার সময় জেল গেটে উপস্থিত ছিলেন মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম, মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর, চাচা মো. দুলাল ও আবু সালেহসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি মূলত জেল গেটে এসেছি মিন্নিকে হাইকোর্টের নিদের্শনা জানিয়ে দিতে। হাইকোর্ট তার আদেশে নির্দেশনা দিয়েছেন, মিন্নি কোনো মিডিয়ার সামনে কথা বলতে পারবেন না। সেই নির্দেশনা মিন্নিকে স্মরণ করিয়ে দিতে জেলখানার সামনে এসেছি।

গত ২৬ জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পর দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলেকে হত্যায় পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

পর দিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হলে সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।

বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিন্নির জামিন আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর গত ৫ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

মিন্নিকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আটকাতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। মিন্নির জামিন স্থগিতের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ যে আবেদন করেছিল, তা শুনে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার আদালত সোমবার ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। ফলে মিন্নির জামিনে মুক্তিতে বাধা কাটে। চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত এ আদেশ দেন।

গত ২৯ আগস্ট মিন্নিকে কেন জামিন দেয়া হবে না, মর্মে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুই শর্ত দিয়ে মিন্নির অন্তর্বর্তী স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন।

শর্ত দুটি হলো- ১. জামিনে থাকাবস্থায় মিন্নি তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় থাকবেন; ২. জামিনে থাকাবস্থায় তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এই দুই শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে মিন্নির জামিন বাতিল হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।