গাজীপুরে রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

  গাজীপুর প্রতিনিধি ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় রাধুঁনী ও তৃপ্তি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নামে দুটি রেস্তোরাঁয় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় রাধুঁনী ও তৃপ্তি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নামে দুটি রেস্তোরাঁয় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ছবি: যুগান্তর

গাজীপুরে রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিনুর ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার গভীর রাতে নগরীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার এলাকায় রাধুঁনী ও তৃপ্তি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নামে দুটি রেস্তোরাঁয় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এতে পাশাপাশি দুটি ভবনের দেয়াল, ইট-শুরকি, পিলার ও শাটার স্প্লিন্টারের মতো উড়ে গিয়ে কমপক্ষে ১৮ জন আহত হন।আহতরা সবাই ওই দুই খাবার হোটেলের কর্মী। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দিকে এ দুর্ঘটনার ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণে প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকায় ৩ তলা ভবনের রাধুনী হোটেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় রাধুনী হোটেলের ভবনের নিচ তলা ও দ্বিতীয় তলা বিস্ফরণে ধসে যায় এবং পাশের ভবনের ৪তলা ভবনের নিচ তলায় তৃপ্তি হোটেলের আংশিক চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।

এছাড়া পাশের আইএফআইসি ব্যাংকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এতে কমপক্ষে ১৮জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে তায়রুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুই হোটেলের মাঝ দিয়ে গ্যাসের পাইপলাইন অথবা সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছে কিনা তদন্ত শেষে বলা যাবে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, পাশাপাশি দুটি ভবনের নিচতলায় দুটি খাবার হোটেল। ওই দুটি হোটেলের মাঝ বরাবার স্যুয়ারেজ লাইন। ওই লাইন ছিল ঢাকনা দেয়া। হতে পারে ময়লা আটকে সেখানে গ্যাস জমেছিল। তিনি আরো জানান, সামান্য দূরে এই স্যুয়ারেজ লাইনেই বিস্ফোরণ হয়েছিল গত রোজায়।”

রাধুনী হোটেলের রুটির কারিগর মো. জমির উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, রাত পৌনে ২টার দিকে তাদের হোটেলের মেঝের নিচ দিয়ে যাওয়া জ্যাম হয়ে থাকা পিভিসির পাইপ পরিষ্কার করা হয়। পরে ওই পাইপের মুখটির ঢাকনা লাগানোর সময় হঠাৎ করে প্রচণ্ডবেগে গরম বাতাস বইতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই বাতাস তাকে ঠেলে নিয়ে হোটেলের ভেতর থেকে বাইরের দিকে ফেলে দেয় এবং বিকট শব্দ হয়। কিছুক্ষণ পর তার ওপর ইট-সুরকি ও মিষ্টির শোকেজের কাচ গিয়ে তার ওপর পড়ে। এতে তিনি আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। ওই বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর খাবার হোটেল থেকে ছিটকে যাওয়া ইট-সুরকির আঘাতে মহাসড়কের পেরিয়ে উল্টো পাশের বোর্ডবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাঁচতলায় গিয়ে পৌছে। এতে ওই মসজিদের মিনারের উঁচু চুড়ায় স্থাপিত হর্ণ ও জানালার কয়েকটি কাঁচ ভেঙে যায়। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে তায়রুন্নসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখান থেকে ১৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়ার স্টেশন অফিসার মো. জাকারিয়া খান বলেন, “হোটেলে বিস্ফোরণ আর আগুনের খবর পেয়ে আমরা গিয়েছিলাম। বিস্ফোরণে হোটেলের দেয়াল উড়ে গেছে। তবে আগুন ছড়ায়নি।”

বাংলার রাঁধুনী হোটেলের ম্যানেজার সুমন (২৬) নিজেও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাতে কাজ শেষে তারা যখন হোটেল বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই ওই বিস্ফোরণ ঘটে।

সুমন ছাড়াও আল আমীন (৩২), আরিফুল (১৮), জুবায়ের (১৬), নাজমুল (২২), জাহিদ (২৫), আলমগীর (২৭), মারুফ (১৩), মাসুদ (১৮), সুফিয়ান (২২), জাহাঙ্গীর (২০), শুকুর (১৯), রাশেদ (২২), তুহিন (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া যুগান্তরকে বলেন, “মোট ১৮ জনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিন জনকে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৮জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩জনকে বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদের বিভিন্ন ওয়াডে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম। অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট মো: শাহিনুর ইসলামকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান শাহিনুর ইসলাম শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে দুই হোটেলের মাঝখান দিয়ে (মেঝের নিচ দিয়ে যাওয়া) সুয়ারেজ লাইনে এবং হোটেল দুইটির সামনে থাকা ড্রেনে জমাকৃত গ্যাসের বিস্ফোরণ থেকেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন এবং বিকেলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে র্যাব-১-এর কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুপুরে বোম্ব ডিস্পোজাল ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলের ছয় সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিস্ফোরণ স্থলের নমুনা নিয়ে গেছেন। ওই নমুনা পরীক্ষার পর বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্বন্ধে বলা যাবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×