চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি নোবেলজয়ী ৩ নারী

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি নোবেলজয়ী ৩ নারী

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী তিন নারী ইরানের শিরিন এবাদি, ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান ও যুক্তরাজ্যের মেরেইড ম্যাগুয়ার। এ সময় নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা শুনে তারা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

সোমবার বিকাল ৪টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শান্তিতে নোবেলজয়ী তিন নারী বলেন, মিয়ানমারের যে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও শিশু হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে তা মেনে নেয়া যায় না। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করে মুসলিম বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ইরানের শিরীন ইবাদি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতিত, নিপীড়িত রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ আজ বাংলাদেশে এসে পরবাসে জীবনযাপন করছে। এসব সর্বস্বান্ত রোহিঙ্গাদের জন্য অমুসলিম রাষ্ট্রগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি করছেন। সেখানে মুসলিম দেশগুলো চুপ মেরে থাকার বিষয়টি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে বিস্মিত হওয়ার কথা। তিনি এ মুহূর্তে সারা মুসলিম জাতিসত্তাকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখার আহ্বান করেন।

ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান বলেন, রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের কথা আমরা শুনে আসছিলাম। আজ বাস্তবে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের হৃদয়বিদারক নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। তিনি রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ শিশুদের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে তাতে বোন অং সান সু চির পদত্যাগ করা উচিত। যেহেতু শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন নারী। পাশপাশি তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে এর দায়ভার এড়াতে পারেন না।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের মেরেইড ম্যাগুয়ার বলেন, মিয়ানমারের সেনা, পুলিশ ও রাখাইনদের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে এদেশে পালিয়ে আসা প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সেবা দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে হৃদ্যতা দেখিয়েছে তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ জন্য তার দেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাধুবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, এখানে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিয়ে সসম্মানে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে মিয়ানমারকে। এ জন্য তিনি আন্তর্জাতিক বিশ্ব তথা সমগ্র জাতিকে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোহিঙ্গা নারীদের যেভাবে ধর্ষণ, উৎপীড়ন ও নির্যাতন করা হয়েছে এজন্য অং সান সু চি ও তার সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে তিন দেশের তিন নোবেল বিজয়ী উখিয়ার থাইংখালী তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পৌছলে, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও সংস্থা সংশ্লিষ্টরা তাদের বরণ করেন। পরে নোবেল বিজয়ীরা ওই ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে ক্যাম্পে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এসময় ক্যাম্পের সার্বিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান এবং রোহিঙ্গাদের জীবনযাপনের খোঁজখবর নেন নোবেল বিজয়ীরা। উপস্থিত ডেপুটি সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহীন নোবেল বিজয়ীদের উদ্দেশে জানান, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি সব ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এরপরে তিন নোবেল বিজয়ী সরাসরি তাজনিমারখোলা ক্যাম্পের ভেতরে যান।

তারা মিয়ানমারের রাশিদং এর ছেয়াপ্রাং গ্রামের স্বামীহারা রোহিঙ্গা নারী ছুফাইয়া বেগম (২০) সন্তানহারা নুর জাহান (২৮) সাবেকুন নাহার (৩০) মিয়ানমার সেনা কর্তৃক ধর্ষিত ফাতেমা খাতুন (২৫) রাজেয়া বেগম (২৩) ছেহেরু খাতুনের (২৪) মুখ থেকে তাদের নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন। এসব ঘটনা শোনার পর নোবেল বিজয়ীরা তাদের সামনে চোখের জল ফেলেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter