ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে কাঁচপুর রণক্ষেত্র, ফাঁকা গুলি টিয়ারশেল নিক্ষেপ

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট, সোনারগাঁও

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কাঁচপুর এলাকায় সিনহা গার্মেন্টের শ্রমিকরা দুদিন ধরে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন।

রোববার সকালেও তারা কাজে যোগ না দিয়ে গার্মেন্টের ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

সকাল ৯টা থেকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।  

বেলা ১১টায় মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে সোনারগাঁও থানা পুলিশের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশও অভিযানে নামে।

এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের জলকামান ও টিয়ারশেল ছুড়ে মারলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সংঘর্ষ বেধে যায়। শ্রমিকরা এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন।  

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে গোটা কাঁচপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ আত্মরক্ষাতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ ৭-৮ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশের অভিযানে রাস্তা থেকে সরে গেলেও মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।  এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

উল্লেখ্য, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ছুটিকালে ভাতা প্রদান, মাসিক বেতন ৮ তারিখের মধ্যে পরিশোধ ও ভাতা বৃদ্ধি-এ চার দফা দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে সিনহা গার্মেন্টের শ্রমিকরা শনিবার সকালে কারখানা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

পরে শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে কারখানার প্রধান ফটকের বাইরে গিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ এ সময় কারখানা একদিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় গেলেও কাজে যোগ না দিয়ে তারা প্রথমে কারখানা এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা উল্লিখিত চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিক্ষুব্ধ কয়েকজন শ্রমিক জানান, সিনহা গার্মেন্টে চার দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে করা হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা কর্ণপাত করছে না।  তাই শ্রমিকরা তাদের কাজ বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, কাঁচপুরের সিনহা গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও তার নেতৃত্বে থানা পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

এ সময় পুলিশ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পুলিশ মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে।