শিশু সন্তানের জীবন বাঁচাতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্কুলশিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

  পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষক মো. ফরিদুল আলম
পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষক মো. ফরিদুল আলম

নিজের ও ৭ বছরের কন্যা সন্তানের জীবন বাঁচাতে স্ত্রী, শ্যালিকা ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফরিদুল আলম।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফরিদ আলম পাথরঘাটা উপজেলার মঠেরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ছোট টেংড়া গ্রামের সুলতান মাস্টারের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০১৩ সালের ২৮ মে চরদুয়ানী ইউনিয়নের জ্ঞাপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমান ছিকুর মেয়ে রনি বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে মিথিলা আক্তার নামের ৭ বছরের একটি কন্যা সন্তান হয়।

তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্ত্রী রনি বেগম পরকিয়া প্রেমে আসক্ত। শ্বশুর ছিপু ধর্ষণ ও বন আইনসহ একাধিক মামলার আসামি, বর্তমানে তিনি জেলহাজতে আছেন। তার শ্যালিকা মুন্নি কলগার্ল।

ফরিদ আলম বলেন, এসবের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, ডিবি পুলিশসহ আইন--শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হয়রানি করছে। এ ছাড়া কন্যা সন্তানটিকে একাধিকবার অপহরণ করে জিম্মি করে রেখে আমাকে ও আমার কন্যাকে হয়রানি করছে।

তিনি বলেন, এর আগে তাদের হাতে জিম্মি থাকা অবস্থায় নির্বাহী আদালতের মাধ্যমে উদ্ধার করা হলেও ফের আমার মেয়েকে তারা জিম্মি করে।

তিনি আরও বলেন, সব শেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর আমাকে ও আয়নাল নামের এক ব্যক্তিকে ডিবি পরিচয়ে এএসআই খাইরুল হাসান ও এএসআই মাহফুজ তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায় এবং ২ লাখ টাকা দাবি করে, তা না দিলে আমাকে ১০০ পিচ ইয়াবা দিয়ে মামলা করবে। পরে কার্যালয়ে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে ছেড়ে দেয় বলে ওই অভিযোগে জানান তিনি।

ফরিদ আলম বলেন, আমার স্ত্রী ও শ্যালিকা মুন্নির ফাঁদ থেকে পাথরঘাটা থানার এসআই গাজী মাহতাব ও এএসআই জাকারিয়া নামের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রক্ষা পাননি। তাদের মধ্যে এএসআই জাকারিয়া কিছু দিন আগে আমার শ্যালিকার জন্য পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহার হয়। এর আগে মাহতাবকে ব্লাকমেল করে ২ লাখ টাকা কাবিন করে বিয়ে করেন।

এ ব্যাপারে ফরিদ আলমের শাশুড়ি বকুল বেগম ও শ্যালিকা মুন্নি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। রনি নারী-শিশু আদালতে মামলা করার কারণে ফরিদ আমাদের হয়রানি করার জন্য এই অভিযোগ করেছে।

এ বিষয়ে বরগুনা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি হারুন-অর-রশিদ বলেন, ফরিদ আলম নামের ওই শিক্ষক তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে হয়রানি করার জন্য ডিবি পুলিশকে বলে একটি বাড়িতে ইয়াবা রয়েছে। এ সময় তার সহযোগী আয়নাল নামের এক লোক একটি বাড়ি দেখিয়ে দিলে আমরা সেখানে অভিযান চালালে কিছুই পাইনি। পরবর্তীকালে জানতে পারি ওই শিক্ষক তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে শায়েস্তা করার জন্য এমনটা করেছেন।

তিনি বলেন, তারপর পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসলে পরে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘুষ চাওয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, এখানে আমি নতুন। তবে যতটুকু জানি এএসআই জাকারিয়াকে অফিসিয়ালভাবেই বদলি করা হয়েছে। এ রকমের কোনো ঘটনার কথা শুনিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×