গৃহবধূকে নিপীড়ন: বাদীর পা গুঁড়িয়ে দেয়া প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৪

  পটুয়াখালী (দ.) প্রতিনিধি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

গণনিপীড়ন মামলা: বাদীর পা গুঁড়িয়ে দেয়ায় শাকিলসহ গ্রেফতার ৪
ছবি: যুগান্তর

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে গৃহবধূ গণনিপীড়ন মামলার বাদীকে পিটিয়ে হাত ও পা গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি শাকিলসহ চারজনকে অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেফতার গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা।

বুধবার রাতে পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- প্রধান আসামি আসামিরা হলো মো. শকিল মৃধা, রবিউল ভুইয়া, রবিউল হাওলাদা, সাইফুল ইসলাম।

সদ্য জেল থেকে বের হয়ে মঙ্গলবার রাতে চাপলিবাজারে আসামিরা লোহার রড দিয়ে গণধর্ষণের শিকার হওয়া গৃহবধূর স্বামী বাদী ছিদ্দিকের ওপর হামলা চালায়। এর আগেও ধর্ষণ মামলা ওঠাতে একাধিকবার বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে আসামিরা।

হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় চাপলিবাজারে ফেলে রাখা হয়। রাতে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুরুতর অবস্থায় ছিদ্দিককে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত ছিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলাপাড়া উপজেলা ধুলাশ্বর বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনের একটি চায়ের দোকানে দাঁড়াই। এ সময় আসামি শাকিল, শাহ আলম, মামুন, রবিউলসহ কয়েক যুবক আমাকে লোহার রড দিয়ে পেটানো শুরু করে মাটিতে ফেলে দেয়। মাটিতে ফেলে আসামিরা আমার পায়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।

ঘটনা দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও তারা তাদের অস্ত্রের মুখে দূরে সরিয়ে দেয় বলে জানান তিনি।

ছিদ্দিকের চাচাতো ভাই কবির জানায়, চাপলিবাজারে চিকিৎসা না পেয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে পড়ে চিকিৎসা নিতে পারেনি ছিদ্দিক।

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমতলী এসে প্রাথমিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত দুই পা ব্যান্ডেজ করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয় এবং বরিশাল নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হই।

হামলা শিকার ছিদ্দিক ও ভাই কবির আরও জানায়, চলতি বছরের গত ১৫ এপ্রিল রাতে জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধুলাশ্বর ইউনিয়নের নতুনপাড়ায় স্বামী ছিদ্দিককে বেঁধে তার সামনে স্ত্রীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন একই এলাকার মৃত মনু মাঝির ছেলে শাহ আলম, মনির হাওলাদারের ছেলে শাহিন, রবিউল, আল-আমিন, আবদুর রশিদ, শাকিলসহ ১০-১২ জন।

এ ঘটনায় ১৬ এপ্রিল ধর্ষিতার স্বামী ছিদ্দিক বাদী হয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে অভিযাগ দায়ের করেন।

পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার একদিনের মাথায় ডা. সেলিনা রহমান রোগীকে জোরপূর্বক ছাড়পত্র প্রদান করেন।

এ মামলায় কয়েক আসামি জেলে গেলেও মামলার বাদী ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করে ধর্ষণ মামলার আসামিরা।

ধর্ষণের মামলা উঠিয়ে নিতে একাধিকবার হুমকি দেয়া হয় বাদীকে। বেশ কয়েকবার বাদীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় তারা। পরে তারা আদালতে হাজির হলে আদালত তাদের জেলে পাঠান। জেল থেকে কিছু দিন আগে আসামিরা জামিনে বের হয়ে মঙ্গলবার রাতে ছিদ্দিকের ওপর আবার হামলা চালায়।

মহিপুর থানার ওসি সোহেল আহমেদ জানান, ঘটনা শুনে আমি আহত ব্যক্তিকে বরিশাল যাওয়ার জন্য সব ব্যবস্থা প্রদান করেছি এবং হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালাচ্ছি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×