বিআরটিএর মৃত কর্মকর্তার গোপন কুঠুরিতে মিলল ৩৩ লাখ টাকা

  ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

মৃত সহকারী পরিচালক বিলাশ সরকার
মৃত সহকারী পরিচালক বিলাশ সরকার। ছবি: যুগান্তর

বিআরটিএ সার্কেল ঝিনাইদহের মৃত সহকারী পরিচালক বিলাশ সরকারের ভাড়া বাসার আলমারির ড্রয়ার ও গোপন কুঠুরি ভেঙ্গে পাওয়া গেল নগদ ৩৩ লাখ টাকাসহ ৬টি চেক।

পুলিশের ধারণা, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার সময় ঘুষ হিসেবে টাকাগুলো অর্জন করেন তিনি। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের সাহসী পদক্ষেপে ওই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, বিআরটিএ সার্কেল ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক বিলাশ সরকারের পরিবার-পরিজন ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি একা ভাড়া থাকতেন ঝিনাইদহ জেলা শহরের কলাবাগান এলাকার একটি বাড়িতে। তার মৃত্যুর কয়েকদিন পর পরিবারের দু'জন সদস্যের উপস্থিতিতে তালাবন্ধ কক্ষগুলো খোলা হয়।

একই সঙ্গে ঘরের আলমারির ড্রয়ার ও গোপন কুঠুরির তালা ভাঙ্গা হয়। তল্লাশির পর ১০০০ ও ৫০০ টাকার অনেকগুলো বান্ডেল এবং ৬টি চেক পাওয়া যায়। যেখানে ৩৩ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

সূত্রটি আরও জানায়, মৃত বিআরটিএ কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা টাকাগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তাদের এ বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সব ব্যাংকে খোঁজ নেয়া হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

বুধবার এ সংক্রান্ত তদন্ত শেষ হয় এবং ধারণা করা হচ্ছে বিপুল অংকের এ টাকা অন্যায়ভাবে অর্জিত হয়েছে। সূত্রমতে আলমারির ড্রয়ার ও গোপন কুঠুরি ভাঙ্গার সময় বিলাশ সরকারের দুই ছেলে তমাল ও দীপ, বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেলের সহকারী মোটযান পরিদর্শক ফরহাদ হোসেন, ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সুচন্দন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছোট নাজির মুকুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, উদ্ধার করা টাকাগুলো সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে এবং সার্বিক ঘটনা তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।

অন্য আরেকটি সূত্র জানায়, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার সময় অন্যায়ভাবে দালালদের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা অর্জন করতেন বিলাশ সরকার। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ব্যাংক হিসাবে সেই টাকা না রেখে নিজের কাছে রেখে দিতেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে তার মৃত্যুর পরে একটি গ্রুপ টাকাগুলো হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে আসছিল।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র যুগান্তরকে বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকে বিলাশ সরকারের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। জেলা শহরে অবস্থিত ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) হিসাবে জমানো ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার খোঁজ পাওয়া গেছে। ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক ছিলেন বিলাশ। ঝিনাইদহ জেলা শহরের গোবিন্দপুর এলাকায় জমি ও নির্মাণাধীন ৩ তলা একটি বাড়ি রয়েছে তার।

প্রসঙ্গত, দৈনিক যুগান্তরে গত ২১ আগস্ট ‘স্যার টাকা বুঝে না নিয়ে ফাইল স্বাক্ষর করেন না’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। বিলাশ সরকারের প্রকৃত বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালি এলাকায়। তার দুই ছেলে। তমাল বড় এবং দীপ ছোট। মায়ের সঙ্গে রাজধানীতে বসবাস করেন তারা।

বিলাশ সরকার ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল সহকারী পরিচালক হিসেবে ঝিনাইদহ সার্কেলে যোগদান করেন। ২০১৪ সালের ৩ মার্চ মাগুরা জেলায় নবগঠিত সার্কেলে বদলি হন। ২০১৭ সালে ফের ঝিনাইদহ সার্কেলে যোগদান করেন এবং চলতি মাসের ১০ তারিখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে যাওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×