হতদরিদ্র ৮ শতাংশ পরিবার সারা বছর একবেলা ভাত খায়

  কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

হতদরিদ্র ৮ শতাংশ পরিবার সারা বছর একবেলা ভাত খায়
মঙ্গলবার ঝিনাইদহে জরিপের তথ্য তুলে ধরে জাপানভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড'

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্র ৮ শতাংশ পরিবার সারা বছর দিনে একবেলা খায়। আর ২০-২৫ শতাংশ পরিবার বছরে তিন মাস একবেলা খায়।

জাপানভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড' পরিচালিত ভিত্তি জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সংগঠনটি নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ১২ গ্রাম ও রায়গ্রাম ইউনিয়নের একটি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের বিরাজমান দারিদ্র্যের প্রকৃতি সম্পর্কে এ জরিপ চালায়।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের বলিদাপাড়ার প্রশিক্ষণ ও বিকাশ কেন্দ্রের হলরুমে জরিপের ফল উপস্থাপন করেন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়ক একেএম মাহতাব উদ্দিন, আঞ্চলিক সমন্বয়ক হাফিজুর রহমান ও প্রকল্প কর্মকর্তা শাহিন হোসেন।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালের মে-জুন মাসে কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ১২ গ্রাম ও রায়গ্রাম ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ জরিপ চালানো হয়।

জরিপকৃত এলাকার হতদরিদ্র ৪৮২ পরিবারের মধ্যে ১০২টি পরিবারের ওপর জরিপ করা হয়।

জরিপে উঠে আসে- হতদরিদ্র ৮ শতাংশ পরিবার সারা বছর দিনে একবেলা খায়। ২০-২৫ শতাংশ পরিবার বছরে তিন মাস (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) একবেলা খায়। ৫৫ শতাংশ পরিবার ভাতের অভাব হলে বিকল্প খাবার হিসেবে আটা খেয়ে থাকেন।

জরিপে আরও বলা হয়, জনপ্রতি প্রতিদিন খাবারের জন্য ব্যয়কৃত চালের পরিমাণ ৪০০ গ্রাম। বেশিরভাগ পরিবারই চাল কিনে খায়।

এ ছাড়া জরিপে উঠে আসে, ইউনিয়নের ৩৪ শতাংশ পরিবার শাকসবজি খায়। ৪০ শতাংশ পরিবার সপ্তাহে একবারও ফল খায় না। ৬৪ শতাংশ পরিবার ফল কিনে খায়। ৭০ শতাংশ পরিবার প্রায় মাছ খায়। ৩০ শতাংশ পরিবার ডিম ও ২০ শতাংশ পরিবার দুধ খায়।

জরিপ অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ পরিবার গবাদিপশু ও হাসমুরগি পালন করে থাকেন। দিনমজুরি ও কৃষিকাজ এখনও প্রধান পেশা। ৭২ শতাংশ পরিবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন।

জরিপে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে, ৭০ শতাংশ নারী ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সাংসারিক কাজে নিয়জিত থাকেন। এলাকার ২০ শতাংশ নারী কৃষিকাজ করেন। বেশিরভাগ নারী পরিবারের সঙ্গে বসে খাবার খেলেও একই রকম খান না।

জরিপের তথ্যমতে, ৭৯ শতাংশ পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যগত সমস্য আছে এবং প্রতি পরিবারের ২ দশমিক ৮ শতাংশ সদস্যের স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে।

নারী স্বাস্থ্য সম্পর্কে জরিপে জানা গেছে, ৭৬ শতাংশ নারী তাদের প্রাত্যহিক জীবনে অপুষ্টিজনিত শারীরিক অসুস্থতাবোধ করেন। প্রায় ৫০ শতাংশই পরিবার পুষ্টি বজায় রেখে রান্না করেন না। ৫৬ শতাংশ নারীর উচ্চতা অস্বাভাবিক ও ১৮ শতাংশ নারীর কম ওজন।

এ ছাড়া বাল্যবিয়ে ও অল্প বয়সে মাতৃত্বের প্রবণতা উচ্চ। গর্ভপাত ও নবজাতকের এক বছরের কম শিশু মৃত্যুর হার সহনীয় পর্যায়ে নয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ রনি, কালীগঞ্জ উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার শরিফা আক্তার, উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আবু বিল্লাল হোসেন, কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাবজাল হোসেন প্রমুখ।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter