মা ও দুই মেয়েকে খুন করা দেখে ফেলায়...

  সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২০ | অনলাইন সংস্করণ

আসামি
আসামি আব্বাস। ছবি: যুগান্তর

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী সিআইখোলা এলাকায় বৃহস্পতিবার মা নাজমিন বেগম (২৬) ও দুই মেয়ে নুসরাত (৮) ও সুনাইনা ওরফে সায়মাকে (২) গলাকেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত একমাত্র আসামি নিহত নাজমিন বেগমের বড় বোনের স্বামী আব্বাস উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মিল্টন হোসেন আদালতে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) মো. আসাদুজ্জামান। এদিকে নিহত মা ও দুই মেয়ের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে নিহত নাজমিনের স্বামী সুমন মিয়ার সুমিলপাড়ার বাবার বাড়িতে শুক্রবার বিকেলে ৩টায় নিয়ে আসে। পরে বাদ আছর তাদের তিনজনের জানাযা শেষে আদমজী কবরস্থান দাফন করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে সিআইখোলা এলাকার আনোয়ার হোসেন ছয়তলা বাড়ির ষষ্ঠ তলার পূবর্ দিকের ফ্লাটে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে নাজমিন বেগমের বড় বোন ইয়াছমিন বেগমের স্বামী আব্বাস উদ্দিন ফ্লাটে ঢুকে নাজমিন বেগম, তার দুই মেয়ে নুসরাত (৮) সুনাইনা ওরফে সায়মাকে (২) ছুরিকাঘাত এবং গলাকেটে হত্যা করে। হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলায় আব্বাস উদ্দিন নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় নিহত নাজমিন বেগমের স্বামী সুমন মিয়া বাদী হয়ে ভায়রা আব্বাস উদ্দিনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বৃহস্পতিবার রাতেই মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় পুলিশ শুক্রবার দুপুরে আদালতে নিয়ে আসলে আব্বাস উদ্দিন ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি প্রদানে রাজি হয়।

মামলায় সুমন উল্লেখ করেন, তার স্ত্রীর বড় বোন ইয়াসমিনের সঙ্গে স্বামী আব্বাসের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। বিভিন্ন সময় এই কলহের কারণে তার স্ত্রী নাজমিনের বড় বোন ইয়াসমিনের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় আব্বাসের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়।

গত মঙ্গলবার রাতে আব্বাস ও তার স্ত্রী ইয়াসমিনের ঝগড়া হলে বাদী সুমনের শ্যালক হাসান বড় বোনের স্বামী আব্বাসকে কিল ঘুষি মারে এবং পরদিন সকালে হাসান তার বড় বোন ইয়াসমিন ও তার মেয়ে সুমাইয়াসহ সুমনের বাসায় বোন নাসরিনের কাছে চলে আসে।

পরে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় সুমন কর্মস্থল সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক জোনাকী পেট্রোল পাম্প থেকে মিজমিজি সিআইখোলাস্থ আনোয়ার মালিকানাধীন ৭ তলা ভবনের ৬ তলার ফ্ল্যাট বাসায় এসে স্ত্রী ও সন্তানদের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ এবং তার স্ত্রীর বড় বোনের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) রক্তাক্ত আহত অবস্থায় খাটের ওপর জীবিত দেখতে পান।

পরে ঘটনাটি তার শ্যালক হাসানকে ফোন করে জানালে কর্মস্থল থেকে তার শ্যালক হাসান ও স্ত্রীর বড় বোন বাসায় আসে এবং হাসান জরুরী ভিত্তিতে সুমাইয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার স্টেশন সংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে খাবার টেবিলের নিচ থেকে একমাত্র আসামি নিহত নাজমিন বেগমের বোনের জামাই আব্বাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার দোষ স্বীকার করেছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×