যবিপ্রবি ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতা বিবাহিত-চাকরিজীবী

  যশোর ব্যুরো ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

চার বছর ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি
চার বছর ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি

চার বছর ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও আসেন না ক্যাম্পাসে। অধিকাংশ নেতা বিবাহিত ও চাকরিজীবী

ফলে নতুন কমিটি না হওয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম। পদে আসতে আগ্রহী ছাত্রলীগের নেতারাও হতাশ।

তাদের দাবি, ছাত্রলীগের কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে অনেক অসঙ্গতি থাকলেও প্রতিবাদ করার কেউ নেই।

তবে বর্তমান কমিটির সভাপতি-সম্পাদক বলছেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নতুন কমিটিকে তারাও স্বাগত জানাচ্ছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের হাল ধরুক। কোনো ভাই লীগ নয়, নতুন নেতৃত্ব হতে হবে মাদকমুক্ত, সাংগঠনিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করবে সেই কমিটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সুব্রত বিশ্বাসকে সভাপতি ও এসএম শামীম হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছর মেয়াদী যবিপ্রবি ছাত্রলীগের ৫৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। চার বছর আগে সেই কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।

এরমধ্যে প্রায় এক বছর ধরে ক্যাম্পাসে নেই সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস। তার কর্মীদের অভিযোগ, তিনি ক্যাম্পাসে আসেন না। এমনকি কর্মীদের ফোনও ধরেন না।

তবে সুব্রত বিশ্বাসের দাবি, মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে যান তিনি।

অপরদিকে, ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসান আর ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি।

বর্তমান কমিটি চার বছর ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ। কমিটির অধিকাংশ নেতা বিবাহিত ও চাকরিজীবী। তারা ক্যাম্পাসে নেই। অল্প সংখ্যক নেতা সক্রিয় আছে। এতে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটি না হওয়ায় হতাশ রাজপথের সক্রিয় নেতাকর্মীরা। নতুন নেতৃত্বে আসতে আগ্রহীদের দাবি সংগঠনকে গতিশীল করতে অবিলম্বে কমিটি ঘোষণা করা হোক।

যবিপ্রবি হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানি বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রলীগ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিমাতাসূলভ আচরণের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না সংগঠনটি। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া নিয়েও কথা বলতে পারছে না।

শহীদ মশিয়ুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, যে কোনো ছাত্র সংগঠন গতিশীল হওয়ার পূর্বশর্ত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। সেটি যবিপ্রবি ছাত্রলীগের নেই। মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বহাল থাকলেও অধিকাংশ নেতা ক্যাম্পাসের বাইরে পারিবারিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে আবেদন দ্রুত যবিপ্রবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দেয়া হোক।

যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফিকুর রহমান আয়ন বলেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটিতে চেইন অফ কমান্ড নষ্ট হয়ে গেছে। সভাপতি-সম্পাদক ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। কমিটির বেশিরভাগ নেতা চাকুরিজীবী ও বিবাহিত। কমিটির অল্প সংখ্যক নেতা রাজপথে সক্রিয় আছে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান সংগঠনকে গতিশীল করতে অবিলম্বে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হোক।

যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসান বলেন, আমরা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমিও চাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে নতুন নেতৃত্ব আসুক। আর সেটি সম্মেলনের মাধ্যমেই হোক। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের দিকে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি হতে পারে। সংগঠন গতিশীল হোক এটাই প্রত্যাশা।

যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস বলেন, কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। আমরাও অনেক দিন নেতৃত্ব দিয়েছি। আমার প্রত্যাশা কোনো ভাই লীগ নয়, মাদকমুক্ত নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করবে এমন নেতৃত্ব আসুক। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নতুন কমিটি দিলে স্বাগত জানাবো।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×