মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যার পর রাজুর লাশ পানিতে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা

  পাবনা প্রতিনিধি ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

রাজু আহম্মেদ
রাজু আহম্মেদ। ফাইল ছবি

হত্যাকাণ্ডের ৫দিন পর পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের গণিত বিভাগের ছাত্র চাঞ্চল্যকর রাজু আহম্মেদ (২২) হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পিবিআইয়ের এসআই ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম।

মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে রাজুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বিলের পানিতে ফেলে দিয়েছিল অপহরণকারীরা। গ্রেফতারের পর ২ আসামি পিবিআইয়ের কাছে এ তথ্য দেয়।

রোববার বিকালে আসামিদের পাবনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শনিবার মধ্যরাত ও রোববার ভোরে আলাদা অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়।

গ্রেফতারকৃত দুই আসামি হলো সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার দত্ত খারুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৩৫) ও একই গ্রামের শামসুল প্রামানিক (৩৩)।

নিহত রাজু পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের লোকমান প্রামানিকের ছেলে। তিনি পাবনা শহরের রাধানগরে কুবাত ছাত্রাবাসে থেকে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে লেখাপড়া করতেন।

পিবিআই পাবনা কার্যালয়ের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরের রাধানগর এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে কলেজছাত্র রাজু আহমেদকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় ‘আংকেল’ নামে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে রাজু আহমেদের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় ২০ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করে রাজুর পরিবার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই পাবনা। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার মধ্যরাতে ভাঙ্গুড়া রেল স্টেশন এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পিবিআই সদস্যরা।

পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর সহযোগী শামসুল প্রামানিককে রোববার ভোরে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরহাদ হোসেন জানান, গ্রেফতারের পর দুই অভিযুক্ত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কলেজছাত্র রাজু আহমেদ হত্যায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তাদের ভাষ্যমতে, ১৬ সেপ্টম্বর সকালে পাবনা শহরের কুবাদ ছাত্রাবাস থেকে রাজু আহম্মেদকে ডেকে নিয়ে যায় সিরাজুল ইসলাম। প্রথমে উল্লাপড়া রেলস্টেশনে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে রাজু ও সিরাজুল। সেখান থেকে নিজের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে রাজুকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ার দিলপাশার স্টেশনে যায় সিরাজুল।

সেখানে সিরাজুলের সহযোগী নৌকার মাঝি শামসুল প্রামাণিককে মোবাইলে ডেকে নিয়ে নৌকায় উঠে রওনা হয়। পথিমধ্যে নৌকার বাঁশের মাচালের ওপর রাজু ঘুমিয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বিলের পানিতে ফেলে দেয় সিরাজুল ও শামসুল।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×